সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যজুড়ে চলছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar) প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ। অনলাইন এবং অফলাইন দু’ভাবেই চলছে আবেদন। অফলাইনে মহিলাদেরকে ১৩ পাতার একটি ফর্ম ফিলাপ করতে হচ্ছে। যদিও অনলাইনে অতটাও তথ্য দেওয়া লাগছে না। তবে অফলাইনে ফর্ম পূরণের ক্ষেত্রে ৯ নম্বর পাতায় রয়েছে সামাজিক মর্যাদা এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিগণ। আর সেখানে বাড়ির শিশুদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে এবার বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
বেসরকারি স্কুলে পড়ালে মিলবে না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার
এদিন পূর্ব মেদিনীপুরের রেয়াপাড়ায় জনকল্যাণ শিবিরে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখান থেকেই তিনি একাধিক ঘোষণা করেন। কারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের যোগ্য দাবিদার তা নিয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ঠিক, তাদের খতিয়ে দেখেই উন্নয়নমূলক প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে। যে সমস্ত আবেদনকারী তাঁদের সন্তানদের সরকার বা সরকারপোষিত স্কুলে পড়ান না তাঁদের অন্নপূর্ণা যোজনা কেন প্রয়োজন?” এমনকি টিকাকরণ নিয়ে তিনি বলেন, “যারা টিকাকরণ করাননি, ভাবেন টিকাকরণ করালে জন্মের হার কমে যাবে, তাদেরও কেন দরকার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার? যাদের অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা দরকার নেই, শুধুমাত্র অন্নপূর্ণা যোজনা টাকার প্রয়োজন তাদের এই সুবিধা দেওয়া হবে না।”
প্রসঙ্গত, আবেদনপত্রের ৯ নম্বর পাতায় পরিবারে কতজন শিশু সদস্য রয়েছে, সেই শিশুদের নাম, সে কোন স্কুলে পড়ে, এমনকি সরকারি নাকি বেসরকারি স্কুলে নাকি মাদ্রাসায় পড়ে, কোন ক্লাসে পড়ে সমস্ত তথ্য দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুটির টিকাকারণ হয়েছে কিনা তাও জানাতে চাওয়া হচ্ছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী এখানেই আটকে যেতে পারে অনেক মহিলার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ৩০০০ টাকা।
আরও পড়ুন: রাম মন্দিরে কি আদৌ চুরি হয়েছিল? অযোধ্যায় পৌঁছল বিশেষ তদন্তকারী দল
এদিকে আবেদন ফর্মে আবেদনকারী থেকে শুরু করে পরিবারের সমস্ত সদস্যদের নাম, পরিচয়পত্র, আধার নম্বর, ভোটার কার্ডের তথ্য, সবকিছু দিতে হচ্ছে। এমনকি পরিবারের সমস্ত সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডিটেলস, আইএফএসসি কোড এবং রেশন কার্ডের তথ্য দেওয়া লাগছে। যদিও অনলাইনে এত তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না। শুধুমাত্র আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ডের তথ্য দিলেই হচ্ছে। তাছাড়াও পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য বীমা সংক্রান্ত তথ্য দিতে হচ্ছে, এবং পরিবারের কে কোথায় কাজ করে, ইনকাম কত, গাড়ি আছে কিনা, পাকা ঘর আছে কিনা সমস্ত তথ্য দেওয়া লাগবে।