তিন মাসের জন্য বন্ধ রাজ্যের সমস্ত অভয়ারণ্য, কারণ কী? জারি সরকারি বিজ্ঞপ্তি

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পর্যটকদের জন্য দুঃসংবাদ! বর্ষার মরসুম (Monsoon) শুরু হতে না হতেই বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের জন্য আগামী তিন মাসের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হতে চলেছে রাজ্যের সমস্ত অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যানের দরজা (West Bengal National Parks)। মাথায় হাত সকলের। ইতিমধ্যেই বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ বন দপ্তরের জলদাপাড়া ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশন।

নির্দেশিকায় কী জানানো হয়েছে?

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বন দপ্তরের জলদাপাড়া ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশনের জারি করা এক নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামীকাল অর্থাৎ ১৬ জুন ২০২৬ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পর্যটকদের বন্ধ থাকবে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান। তবে শুধু জলদাপাড়া নয় আগামী তিন মাসের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে রাজ্যের সমস্ত অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যান। জানা গিয়েছে, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইন, ১৯৭২-এর ধারা ৩৩(সি) অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়াও বন্ধ থাকবে সিঙ্গালিলা, নেওড়া ভ্যালি, গরুমারা, বক্সা সহ সব জাতীয় উদ্যান।

কী কারণে বন্ধ থাকবে?

বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষার সময় বন্যপ্রাণীর প্রজননকাল এবং বনাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকে। তাই জঙ্গলের উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য নিরিবিলি পরিবেশ প্রয়োজন হয়। সেই কারণে বন্যপ্রাণীদের সংরক্ষণের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এখানে ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা, ভূমিধস, রাস্তার ক্ষতি হওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তাই তাঁদের কথা ভেবেও এই সময় বন্ধ করা হয় উদ্যানগুলি। যদিও এই নিয়ম প্রতি বছর হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: নবান্নের নির্দেশে বাংলার আবাসে টাকা ফেরাতে হচ্ছে এদের, তালিকায় কারা?

প্রসঙ্গত, এই সময় জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্যের ভেতরের থাকা সব কটি বনবাংলো বন্ধ থাকলেও জঙ্গলের বাইরে থাকা ধুপঝোরা, কালীপুর ইকোভিলেজ খোলা থাকবে পর্যটকদের জন্য। এছাড়াও গরুমারা জাতীয় উদ্যানের ধুপঝোড়া গাছবাড়ি যেহেতু জঙ্গলের বাইরে তাই সেখানে পর্যটকরা প্রবেশ করতে পারবে। তবে ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে নিয়ম মাফিক উত্তরবঙ্গের জঙ্গলগুলোতে সাফারি বা পর্যটকদের প্রবেশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে বন দফতর।

Leave a Comment