আন্দোলনের মাঝেই ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতাকে সপাটে চড়, উত্তপ্ত জয়পুর

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজস্থানের জয়পুরে (Jaipur) যুব আন্দোলনের মঞ্চে হঠাৎ করে উত্তেজনার বিস্ফোরণ। নিটের প্রশ্ন ফাঁস, বেকারত্ব আর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতিদের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির মাঝেই হামলার শিকার হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijit Dipke)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

সূত্রের খবর, জয়পুরের শহীদ স্মারকে আয়োজিত ওই বিক্ষোভ সভায় অংশগ্রহণ করতে গিয়েছিলেন অভিজিত দীপকে। ছাত্র যুবদের নানারকম সমস্যা তুলে ধরতে যেখানে উপস্থিত হন তিনি। অভিযোগ, সেই সময়ই আচমকা এক যুবক তাঁর কাছে এসে পরপর কয়েকটি চড় মারেন। এমনকি পুরো ঘটনাটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে। এরপরে বিক্ষোভস্থলে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।

অভিযুক্তকে ঘিরেই বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভ

ঘটনার পরপরই মঞ্চের সামনে উপস্থিত আন্দোলনকারীরা অভিযুক্ত যুবককে ধরে ফেলেন এবং উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয়। বর্তমানে পুলিশ ধৃত ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এমনকি কেন এই হামলা চালানো হলো, তার পিছনে কোনও রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই ওই এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এদিনের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য মূলত নিটের প্রশ্ন ফাঁস, সরকারি চাকরিতে অনিয়ম, বেকারত্ব বৃদ্ধি, শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কেন্দ্র করেই ছিল। হাতে জাতীয় পতাকা, পোস্টার আর ব্যানার নিয়ে বহু তরুণ তরুণীরা সেখানে উপস্থিত হন। বিক্ষোভকারীদের পোস্টারে স্পষ্ট লেখা ছিল, “দেশকে ভালোবাসি, দুর্নীতি মানি না”, “পেপার লিক বন্ধ করো” ইত্যাদি স্লোগান। আন্দোলনে বহু অভিভাবকও অংশগ্রহণ করেন। এমনকি কয়েকজন মহিলা তাদের ছোট সন্তানের নিয়েও প্রতিবাদেসামিল হন।

আরও পড়ুন: তিন মাসের জন্য বন্ধ রাজ্যের সমস্ত অভয়ারণ্য, কারণ কী? জারি সরকারি বিজ্ঞপ্তি

বিক্ষোভকারীদের একাংশ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, বারবার প্রশ্ন ফাঁস এবং নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনায় দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারের মুখে পড়ছে। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে শহীদ স্মারকের গেটে একটি বড় ককরোচের ছবিও আঁকা হয়। আর তার পাশেই লেখা ছিল “ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দাও”। তবে এর মধ্যেই আচমকা অভিজিতের উপর চলে হামলা, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে জলঘোলা।

Leave a Comment