অনন্যা সরকার, মহারাষ্ট্র: বর্ষা আসতেই সেন্ট্রাল রেলওয়ের (Central Railways) তরফে মাথেরান টয় ট্রেনের (Neral-Matheran Toy Train)-এর চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হল। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, বর্ষাকালে চার মাসের জন্য নেরাল-মাথেরান ন্যারো গেজ লাইনের নেরাল-আমান লজ অংশে নিয়মিত যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা স্থগিত রাখা হচ্ছে। মাথেরান টয় ট্রেনে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত যাত্রা করা যাবে না বলে জানালো রেল।
শাটল পরিষেবা জারি থাকবে
সেন্ট্রাল রেলওয়ে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, পর্যটক ও স্থানীয় মানুষদের সুবিধার্থে মাথেরান এবং আমান লজের মধ্যে প্রতিদিনই শাটল পরিষেবা চালু থাকবে। মাথেরান হিল রেলওয়ে নামে পরিচিত নেরাল-মাথেরান ন্যারো গেজ রেলওয়ে ১০০ বছরেরও বেশি পুরোনো একটি ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে ট্র্যাক। এই লাইনটি মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার শৈলশহর মাথেরানের সাথে পাহাড় পাদদেশের নেরালের মধ্যে সংযোগ তৈরি করেছে।
১৯০৭ সালে তৈরি এই রেললাইন পাহাড়ের খাড়া চড়াই রাস্তা, তীক্ষ্ণ বাঁক এবং ঘন জঙ্গলময় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে চলে গিয়েছে। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার এই সুন্দর রেলপথটি মহারাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান। রেলওয়ে জানিয়েছে যে, মাথেরান এবং আমান লজের মধ্যে উভয় দিকে প্রতিদিন ছয়টি শাটল পরিষেবা চলবে। শনি ও রবিবারে আরও দুটি অতিরিক্ত শাটল চালানো হবে। মাথেরান থেকে আমান লজ পর্যন্ত প্রতিদিনের এই ছয়টি শাটল পরিষেবা সকাল ৮:২০ থেকে বিকাল ৫:২০ পর্যন্ত চলবে। আর আমান লজ থেকে মাথেরান পর্যন্ত শাটলগুলি চালানো হবে সকাল ৮:৪৫ থেকে বিকাল ৫:৪৫ পর্যন্ত।
আরও পড়ুনঃ ১২ পাহাড়ের সমন্বয়, বর্ষায় বেরোনোর নতুন ঠিকানা, ডাকছে বাঁকুড়ার ‘বারোঘুটু’
আর শনি-রবিবার, মাথেরান থেকে সকাল ১০:০৫ এবং দুপুর ১:১০ মিনিটে দুটি অতিরিক্ত অতিরিক্ত শাটল চলবে, অন্যদিকে আমান লজ থেকে সকাল ১০:৩০ এবং দুপুর ১:৩৫ মিনিটে ছাড়বে এই অতিরিক্ত পরিষেবা। প্রতিটি শাটলে একটি করে সেকেন্ড ক্লাস কোচ, একটি ফার্স্ট ক্লাস কোচ এবং একটি সেকেন্ড ক্লাস কোচ-কাম-লাগেজ ভ্যান থাকবে।
কেন স্থগিত হল মাথেরান টয় ট্রেন পরিষেবা?
বর্ষাকালে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা সংলগ্ন অঞ্চলে ভূমিধস, পাথর খসে পড়া সহ অন্যান্য আবহাওয়াজনিত বিপদের ঝুঁকি পূর্ণমাত্রায় থাকে। তাই, সেন্ট্রাল রেলওয়ে সাধারণত দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলিতে ট্রেন পরিষেবা স্থগিত রাখে। মাথেরান হিল স্টেশনে অন্যান্য মোটরচালিত যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ। দস্তুরি পয়েন্টের পর পায়ে হেঁটে বা টয় ট্রেনে যাতায়াত করতে হয়। তাই এই টয় ট্রেন পরিষেবা একদিকে যেমন স্থানীয়দের কাছে পরিবহনের একটি অপরিহার্য মাধ্যম, তেমনই পর্যটকদের জন্য কাছেও প্রধান আকর্ষণ।