গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে বর্ধমান উত্তরের বিজেপি প্রার্থী

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এবার ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের কারচুপির অভিযোগ তুললেন বর্ধমান উত্তর বিধানসভা (Bardhaman Uttar Assembly constituency) কেন্দ্রের পরাজিত বিজেপি প্রার্থী। ভোট গণনায় অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন সঞ্জয় দাস। তাঁর অভিযোগ ১১ রাউণ্ড গণনার পর থেকেই শুরু হয়েছিল ব্যাপক গণ্ডগোল। গোটা বিষয়টি জেলা নির্বাচন দপ্তরের নজরে আনা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাকি কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।

গণনায় কারচুপির অভিযোগ প্রার্থীর

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৮ মে ভোট গণনায় গুরুতর অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ নিয়ে বর্ধমান উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস পুনর্গণনার দাবি তুলে কলকাতা হাইকোর্টে একটি আবেদন দায়ের করেছিলেন। পাশাপাশি গণনা কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ, সমস্ত নথিপত্র এবং ইভিএম (EVM) ও ভিভিপ্যাট (VVPAT) সংরক্ষণের আবেদনও করেছিলেন তিনি। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ ছিল, ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় একাধিক বেনিয়ম ও অনিয়ম হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত কয়েকজন দুষ্কৃতী গণনাকেন্দ্রে ঢুকে তৃণমূলের পক্ষে ভোট গণনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এমনকি বিষয়টি জেলা নির্বাচন দপ্তরে জানানো হলেও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে।

১৩ থেকে ১৬ রাউন্ড পর্যন্ত গণ্ডগোল

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী নিশীথ কুমার মালিক ৬ হাজার ৪৬০ ভোটে জয়ী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাসের অভিযোগ, ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে ফল প্রকাশ থমকে রাখা হয়েছিল। ১১ রাউণ্ড গণনা শেষে তিনি যখন অনিয়ম আঁচ করতে পারেন, তখনই পুনর্গণনার লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। অর্থাৎ ১৩ থেকে ১৬ রাউন্ড পর্যন্ত গণনা সংক্রান্ত স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর রহস্য তৈরি হয়েছে। তাই গত ৮ মে কলকাতা হাইকোর্টে এই নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করেন বিজেপি প্রার্থী।

আরও পড়ুন: তৃণমূলে ব্যাপক রদবদল, কুণাল-রাজীবদের কাঁধে দেওয়া হল গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২৬ জুন কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং বিজেপি প্রার্থীর মত একই অভিযোগ নিয়ে তিনিও হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। এদিকে ভোটে হেরে যুযুধান দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর এভাবে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এখন দেখার হাইকোর্টের রায় কোন দিকে মোড় নেয়।

Leave a Comment