জমি জট কাটলেই শুরু অ্যাপ্রোচ রোড, মুড়িগঙ্গা সেতুর জন্য মোটা বরাদ্দ রাজ্য সরকারের

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অবশেষে এগোচ্ছে নির্মাণকাজ! গঙ্গাসাগর ব্রিজের মুড়িগঙ্গা সেতুর (Muriganaga Bridge) দু’পাড়ে অ্যাপ্রোচ রোডের জন্য বাজেটে প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ ঘোষণা করা হল ১০০ কোটি। গতকাল, অর্থমন্ত্রীর বাজেট (West Bengal Budget 2026) প্রস্তাবে, সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মসৃণ এবং দ্রুতগামী করতে একাধিক পদক্ষেপ করার কথা বলেছিলেন। আর সেই ঘোষণায় নাম উঠে এসেছে সাগরদ্বীপে যাওয়ার জন্য মুড়িগঙ্গার উপর সেতু নির্মাণের বিষয়টিও।

সেতু তৈরিতে বরাদ্দ ১০০ কোটি

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল সোমবার পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশার সময় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত সামাজিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একাধিক জরুরি ঘোষণা করেছিলেন। এক্ষেত্রে একদিকে যেমন পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া এবং নন্দীগ্রামের মধ্যে সংযোগরক্ষাকারী সেতু তৈরি করতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে সাগরদ্বীপে যাওয়ার জন্য মুড়িগঙ্গার উপর সেতু নির্মাণের বিষয়টিও সরকার বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এইমুহুর্তে জমি অধিগ্রহণ-সহ প্রাথমিক কিছু কাজের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

চলছে জমির দর পুনর্মূল্যায়নের কাজ

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সেতুতে ওঠা ও নামার জন্য কাকদ্বীপের ৮ নম্বর লট ও সাগরের কচুবেড়িয়ায় অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি করা হবে। কিন্তু এখনও কচুবেড়িয়ায় এখনও একজন ও ৮ নম্বর লটে দশজন মালিকের কাছ থেকে জমি কেনার কাজ বাকি রয়েছে। সরকারি মূল্য অনুযায়ী ৯০ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ জমির মালিক সরকারি দরে জমি বিক্রি করতে রাজি নন। তাঁরা আরও দাম চাইছেন। তাই ওই জমির দর পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রশাসনিক দপ্তরে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়েছে। নতুন দাম নির্ধারণ হলে আশা করা যায়, অ্যাপ্রোচ রোডের জন্য প্রয়োজনীয় জমি পেতে আর কোনো অসুবিধা হবে না।

আরও পড়ুন: আর হকার-ভিখারিদের দাপাদাপি নেই ট্রেনে! রেলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে যাত্রীরা

কাকদ্বীপের মহকুমা শাসক নিশীথ ভাস্কর পাল বলেন, ‘মুড়িগঙ্গা সেতুর অ্যাপ্রোচ রোডের জন্য ৯০ শতাংশ জমি কিনে নেওয়া হয়েছে। বাকি জমির দরদাম নিয়ে একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাই সেটি পুনর্মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হয়েছে। যদি সব ঠিকঠাক চলে এবং ওই জমি কিনে নেওয়া হয় তাহলে সেতুর দু’প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি করতে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। দ্রুত গতিতে কাজ এগোবে। এবং পরিষেবা মিলবে যথাযথ।” ইতিমধ্যেই এই রাস্তা তৈরির জন্য দু’পাড়ে প্রায় ৯০ শতাংশ জমি কেনার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে।

Leave a Comment