প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: তোলাবাজির মামলাকে (Extortion Case) ঘিরে ক্রমেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। এবার নজরে শুধু তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত (Sabyasachi Dutta) নন, এখন এই মামলার আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী তথা তৃণমূল নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহা। গত সোমবার, রাতে ওই বান্ধবীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩ কেজি সোনা। পেশায় তিনি নাকি প্রাইমারি টিচার। আর এবার সেই খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই বিভিন্ন মহলে ফিসফাস শুরু হয়েছে।
উদ্ধার হয় সাড়ে ৩ কেজি সোনার গয়না
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত সোমবার, মধ্যরাতে সব্যসাচী দত্তকে নিয়ে পুলিশ পৌঁছে গিয়েছিল নদিয়ার করিমপুরে। সেখানকার তৃণমূল নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহার বাড়িতে তল্লাশি চালাতেই ছাপোষা বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় সাড়ে ৩ কেজি সোনার গয়না। যার বাজার দর ৪ কোটি টাকার বেশি। শোনা যাচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সব্যসাচীর সঙ্গে টিনার একাধিক ছবি সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, সেইসব ছবি দেখেই টিনার সম্পর্কে সব্যসাচীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন তদন্তকারীরা। এরপরই প্রাক্তন বিধায়কের বয়ান অনুযায়ীই তাঁকে নিয়ে নদিয়ায় টিনার বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। কিন্তু কীভাবে এত সোনা তাঁর বাড়িতে এল এই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
কী বলছেন টিনা ভৌমিক সাহা?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, টিনা ভৌমিক সাহা, শুধু তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তের বান্ধবী নন তিনি নিজেও একজন স্থানীয় তৃণমূলের দাপুটে নেত্রী। ২০১৮ থেকে নদিয়া জেলা পরিষদে তৃণমূলের সদস্য। এছাড়াও তিনি সেখানকার এক প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাঁর চাকরি পাওয়া নিয়েও স্থানীয়রা অভিযোগ তুলছেন। যদিও সোনা উদ্ধার নিয়ে টিনা ভৌমিক সাহা জানান, “পরিবারের ৭ মহিলা সদস্যের সোনা এক জায়গায় করে সিজার করেছেন। আইনত তথ্য প্রমাণ আছে। ট্যাক্স ফাইলে তোলা আছে। সংবিধান মেনে সোনা রেখেছি। ওনারা কীভাবে বলতে পারেন। রাত আড়াইটে-তিনটে নাগাদ এসব করেছেন ওনারা।” তবে তদন্ত এখনও থামেনি। এখনও সেই নিয়ে চলছে জোর সমালোচনা।
আরও পড়ুন: এখনই বিদেশ যাওয়ায় অনুমতি নয়! হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন অভিষেক
প্রসঙ্গত, রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের টাকা এবং সোনা উদ্ধারের একই ঘটনা পুনরায় দেখা যাচ্ছে সব্যসাচী দত্তের মামলায়। পার্থর বান্ধবী অর্পিতার থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৫০ কোটি টাকা। যা নিয়ে কম মামলা মোকদ্দমা হয়নি। গতকাল বিধানসভায় এই নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “বিধাননগরে আপনাদের বড় নেতা, প্রাক্তন চেয়ারম্যান, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর মতো ওনারও বান্ধবীর বাড়ি থেকে কেজি কেজি সোনা পাওয়া যাচ্ছে। সব সোনা ২০২১ সালের পরে কেনা। রশিদ পাওয়া গিয়েছে।” এদিকে সব্যসাচী দত্ত গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে স্ত্রী ইন্দ্রাণী দত্তর কোনও খোঁজ পায়নি পুলিশ। এখনও তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়েছে তারা।