নতুন সরকার আসতেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে তোরজোড়, বন্যার আগেই শুরু কাজ

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান (Ghatal Master Plan) নিয়ে তৎপর নতুন রাজ্য সরকার। তৃণমূল জমানায় এই প্ল্যান নিয়ে একাধিক জলঘোলা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ঘাটালের সাংসদ দেব মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হয়ে নিজেই বলেছিলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী এই প্ল্যান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বর্ষাকালে জল যন্ত্রণা থেকে ঘাটালের জনগণকে মুক্তি দেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ। ইতিমধ্যেই এবারের বাজেটে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য। এবার সেই কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বৈঠকে বসলেন জেলায় পুলিশ সুপার।

দ্রুত গতিতে এগোবে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ

১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হওয়ার পর থেকেই বন্যা মোকাবিলার ক্ষেত্রে তৎপরতা বাড়াচ্ছে রাজ্য সরকার। বর্ষার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চাইছে প্রশাসন। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা মঙ্গলবার ঘাটাল থানায় জরুরী বৈঠক সেরেছেন। জানা গিয়েছে, বন্যার কারণে যাতে সাধারণ মানুষকে ঘর ছেড়ে না বেরোতে হয় এবং সমস্যায় না পড়তে হয় তার জন্যই এই উদ্যোগ। এমনকি বন্যার সময় এই অঞ্চলের প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষের ঘরে জল ঢোকে, আর তাদেরকে আশ্রয় নিতে হয় ত্রাণ শিবিরে। পাশাপাশি স্কুলগুলোও জলের নিচে চলে যায়।

সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঘাটালের পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে ঘাটাল এবং দাসপুরের বিডিও অফিসার, ঘাটাল বিধানসভার বিধায়ক শীতল কপাট এবং জেলা ও মহকুমা শাসকের উচ্চপদস্থ সব আধিকারিকরা। নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক তৎপরতা। কীভাবে এই বন্যার জল মোকাবিলা করা সম্ভব, কী কী ব্যবস্থা প্রশাসনের তরফ থেকে করা যায় সেই বিষয়ে খুটিনাটি খতিয়ে রেখেছেন আধিকারিকরা। অনুমান করা হচ্ছে, খুব তাড়াতাড়ি এই মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হবে।

আরও পড়ুন: সরকারি হাসপাতালে বাচ্চার জন্ম হলে সোনার আংটি, ঘোষণা তামিলনাড়ু সরকারের

প্রসঙ্গত, এদিন বৈঠকের পর পুলিশ সুপার সরাসরি ঘাটালের মনশুকা এলাকায় যান। সেখানে ঝুমী নদীর উপর নির্মিত ভগবতী সেতুটি পরিদর্শন করেছেন তিনি। তৎকালীন সরকারের আমলে এই সেতুটি তৈরি হলেও সংযোগকারী কোনও রাস্তা ছিল না। যার কারণে জনসাধারণের জন্য সেই সেতু চালু করা সম্ভবপর হয়নি। তবে এবার প্রশাসনিক কাজে আধিকারিকদের সঙ্গে সে বিষয়ে বৈঠক করে এই কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোর উন্নয়নের জন্যই এবার উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। আশা করা যাচ্ছে, এবার বর্ষার আগেই প্রয়োজনে পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন।

Leave a Comment