চলতি টোটো হ্যাক করছে মোবাইল অ্যাপ, এক ট্যাপেই থমকে যাচ্ছে ই-রিকশা! ভাইরাল ভিডিও

অনন্যা সরকার, কলকাতা: সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভীষণ ভাইরাল (Viral Video) হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে রাস্তায় যেতে যেতে হঠাৎই চলন্ত ই-রিকশা থেমে যাচ্ছে। বলা হচ্ছে বিএটি-বিএমএস (BAT-BMS) নামের একটি চীনা অ্যাপের কারসাজিতেই নাকি এমনটা হয়েছে। এই অ্যাপটি ব্লুটুথের মাধ্যমে ই-রিকশা (E-Rickshaw) এবং কিছু ইলেকট্রিক স্কুটারের ব্যাটারির সাথে সংযুক্ত হয়ে সেগুলোকে রাস্তার মাঝখানে থামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই অ্যাপ ব্যবহারের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ এই অ্যাপটির যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে অনেকে বলেছেন এটি ট্র্যাফিক সমস্যার সমাধান হতে পারে। এই ভিডিওটি দেখে কার্যত অবাক নেটপাড়া। 

অ্যাপ ব্যবহার করে মাঝরাস্তায় থামলো ই-রিকশা 

এক এক্স (X) ইউজারের অ্যাকাউন্ট থেকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক যুবক তার ফোনে বিএটি-বিএমএস নামের একটি চীনা অ্যাপ ডাউনলোড করে এবং সেটি ব্যবহার করে তার স্কুটারের সামনে চলতে থাকা একটি ই-রিকশাকে বিকল করে মাঝরাস্তায় থামিয়ে দেয়। ভিডিওটি ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। সাধারণ জনগণ হতবাক হয়ে গেছেন এটা দেখে যে, এই ধরনের বৈদ্যুতিক যানবাহনকেও একটি মোবাইল অ্যাপ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বিএটি-বিএমএস অ্যাপটি কোনো জাদু নয়। এটি ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সাথে সংযুক্ত হতে সক্ষম একটি অ্যাপ্লিকেশন মাত্র, যা শুধুমাত্র উপযুক্ত বিএমসি এবং ব্লুটুথ মডিউলযুক্ত ব্যাটারির সাথেই কাজ করে। এর মানে এই নয় যে, প্রতিটি ই-রিকশা বা বিদ্যুৎ-চালিত যানবাহন এর আওতায় থাকবে। এই অ্যাপটি কেবল তখনই কাজ করে, যখন উপযুক্ত বিএমসি এবং ব্লুটুথ মডিউল কাছাকাছির মধ্যে থাকবে। কিন্তু অ্যাপ ব্যবহার করে ই-রিক্সা থামিয়ে দেওয়ার অনেক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা চালকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘নো ভেহিকেল জোন, চলবে শুধু ট্রাম আর সাইকেল’ কলেজ স্ট্রিট নিয়ে বড় ঘোষণা

ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন ইউজার মন্তব্য করেছেন, যদি একটি থার্ড-পার্টি অ্যাপ দিয়েই এটা করা সম্ভব, তাহলে সরকার চাইলে যেকোনো সময় যেকোনো যানবাহনই থামাতে পারবে। আরেক ইউজার বলেন, তিনি এই অ্যাপটিকে পুরোপুরি সমর্থন করেন, কারণ যানজটের সবচেয়ে বড় কারণ এই ই-রিকশা। অন্যদিকে, অসন্তোষ প্রকাশ করে এক নেটনাগরিক মন্তব্য করেছেন যে, ভারতের কিছু বেকার মানুষ এখন খেটে খাওয়া রিকশাচালকদের হয়রান করার একটি নতুন পন্থা খুঁজে পেয়েছে, আর তাদের সময় কাটানোর সুব্যবস্থা করে দিয়েছে চীন।  

Leave a Comment