সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার বাড়াতে এবার ধাপে ধাপে ই-২০ পেট্রোল (E20 Petrol) চালুর দিকে এগোচ্ছে ভারত। তবে এই উদ্যোগে আপাতত সায় দিচ্ছে না প্রতিবেশী দেশ ভুটান (Bhutan Buy Fuel From India)। কারণ, ভারতীয় তেল বিপণন সংস্থাগুলির তরফ থেকে ই-২০ পেট্রোল সরবরাহের প্রস্তাব পেলেও ভুটান স্বাভাবিক পেট্রোল সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার জন্যই অনুরোধ করেছে। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, পরিবেশবান্ধব এই জ্বালানির প্রস্তাব ভুটান কেন ফিরিয়ে দিল? এর পিছনে কি কোনও প্রযুক্তিগত বা ভৌগোলিক কারণ রয়েছে?
কেন ই-২০ পেট্রোল নিতে চাইছে না ভুটান?
আসলে ভুটানের প্রধান উদ্বেগ তাদের পুরনো জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়েই। দেশটির ফুয়েল স্টোরেজ ট্যাঙ্ক দীর্ঘদিনের পুরনো, আর সেখানে জল ঢুকে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথানলযুক্ত পেট্রোল সহজে বাতাসের আর্দ্রতা বা জল শোষণ করে নিতে পারে। ফলে যদি সংরক্ষণ ট্যাঙ্কে সামান্য পরিমাণ জল প্রবেশ করে, তাহলে জ্বালানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
এমনকি ভুটানের অধিকাংশ জ্বালানি ডিপো পাহাড়ি ও আর্দ্র এলাকায় অবস্থিত। আর এরকম পরিবেশে ট্যাঙ্কের ভিতর জলীয় বাষ্প জমা হওয়া বা আর্দ্রতা প্রবেশ রোধ করা সত্যিই কঠিন। যার ফলে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি সংরক্ষণ করলে জ্বালানির মান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনকি স্টোরেজ ট্যাঙ্ক ও পাইপলাইনে মরিচা ধরার ঝুঁকি থাকে। পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে গাড়ির ইঞ্জিনের উপরেও প্রভাব পড়তে পারে। এই কারণেই ই-২০ ব্যবহারে ‘না’ জানিয়েছে ভুটান।
আরও পড়ুন: কমল গোল্ড রিজার্ভ, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারেও পতন
পাহাড়ি রাস্তাও বড় কারণ
তবে শুধুমাত্র সংরক্ষণ ব্যবস্থা নয়, বরং ভুটানের ভৌগোলিক অবস্থানও এই সিদ্ধান্তের সবথেকে বড় কারণ। দেশটির অধিকাংশ রাস্তা পাহাড়ি এবং চরাই-উৎরাইতে ভরা। এরকম পরিস্থিতিতে গাড়ির ইঞ্জিন থেকে সর্বোচ্চ শক্তি এবং নিরবিচ্ছিন্ন পারফরমেন্স দরকার পড়ে। ভুটানের আশঙ্কা, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি একই মাত্রায় পারফরমেন্স সমস্ত পরিস্থিতিতে হয়তো নাও দিতে পারে। প্রসঙ্গত, ভুটান নিজস্বভাবে পেট্রোল বা ডিজেল উৎপাদন করতে পারে না। তাদের প্রয়োজনীয় সমস্ত জ্বালানি ভারত থেকেই আমদানি করা হয়। আর বর্তমানে ভারত থেকে তুলনামূলকভাবে উন্নত মানের পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহ করা হয়। যার মূল্য ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের তুলনায় কিছুটা হলেও বেশি। কিন্তু ভারতীয় তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি ই-২০ সরবরাহের প্রস্তাব দিলেও ভুটান এবার স্বাভাবিক পেট্রোলই চাইছে।