প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) জনতার দরবারে হাজির হলেন ১৪ বছর আগে নিহত বরুণ বিশ্বাসের পরিবার। ভাইয়ের বিচার চাইতে পুনরায় তদন্তের (Barun Biswas Murder Case) আর্জি জানালেন নিহত শিক্ষকের দাদা দিদি। এর আগে বরুণের জীবন ও তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করা নিয়ে সিনেমা তৈরি হয়েছিল৷ কলকাতা থেকে শুরু করে বরুণের জন্মভিটে, নানা জায়গায়, মোমবাতি মিছিল করে বরুণের খুনের ন্যায় বিচার চেয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি, অবশেষে সরকার পরিবর্তন হতেই শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আসলেন পরিবারের সদস্যেরা।
পুনরায় খোলা হবে বরুণ বিশ্বাসের ফাইল!
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী আজ, শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে আসেন খুন হওয়া প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসের দাদা ও দিদি। তাঁরা নিজেদের দাবি জানান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। ১৪ বছর আগে ২০১২ সালের ৫ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা স্টেশন চত্বরে গুলি করে খুন করা হয়েছিল বরুণকে। তিনি কলকাতার মিত্র ইন্সটিটিউটশনের শিক্ষক ছিলেন। তখন এই খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। কিন্তু এই ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে জেলেই একজনের মৃত্যু হয়। বাকিরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত। এবার সেই ঘটনার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দ্বারস্থ হল পরিবার।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের
বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের দাবি, তৃণমূলের আমলে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক প্রভাবশালী হওয়ায় সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এদিকে এই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড হলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তাই তৃণমূল সরকারের আমলে বিচার না পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আশা রাখছেন তাঁরা। পরিবারের দাবি, তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সেই মামলা ঝুলে রয়েছে আদালতে। তৃণমূল জমানায় বারবার বদল হয়েছে আইনজীবী। জানা গিয়েছে, আজ সব অভিযোগ শোনার পর শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় সিট গঠন করে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: অনস্পট পলিউশন টেস্ট করবে ট্রাফিক পুলিশ, হাতে এল অত্যাধুনিক যন্ত্র
কী বলছেন নিহত শিক্ষকের দাদা?
বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস বলেছেন, “বিগত ১৪ বছর যে যন্ত্রণা বুকে নিয়ে আমরা ঘুরে বেরিয়েছি তার উপশম করার জন্যই আজ এখানে আসা। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষের অভাব, অভিযোগ শোনার জন্য জনতার দরবার শুরু করেছেন৷ তাই এখানে আমরা এসেছি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আমরা জানালাম যে বরুণ বিশ্বাসের হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত হয়নি। আশা রাখছি পুনরায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করলে দোষী কারা তা বেরিয়ে আসবে।” অন্যদিকে দিদি প্রমীলা রায় বিশ্বাস জানিয়েছেন, “মুখ্যমন্ত্রী পুনরায় তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। আবেদনপত্রও জমা দিয়েছি। আমাদেরও সহযোগিতা করতে হবে।”