প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বর্তমান সময়ে ফ্যাশনের সঙ্গে কেউই আর আপোস করতে চায় না। পোশাক, প্রসাধনী, গয়না সবকিছু টিপটপ চাই-ই চাই। তবে এখন সবচেয়ে বেশি ট্রেন্ডিং হয়ে উঠেছে ‘নেল এক্সটেনশন’ (Nail Extension)। নকল নখে নিজেকে সাজাচ্ছেন যুবতীরা, যা সাময়িকভাবে হাতের ভোল বদলে দিতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় অজান্তেই হাতের ত্বকের উপর বাজে প্রভাব (Nail Extension Side Effects) পড়ে। এমনকি নিয়মিত নেলআর্ট বা এক্সটেনশন করালে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। সেক্ষেত্রে এর হাত থেকে বাঁচতে কী কী করণীয় তা বিশদে জেনে নিন আমাদের প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে
ফ্যাশনের দৌঁড়ে নিজেকে এগিয়ে রাখার জন্য আজকাল নেইল আর্ট নিয়ে অনেকেই মাতামাতি করে। আসল নখের উপর আঠা দিয়ে কৃত্রিম নখ বসিয়ে, তার উপরে নানা রকম কারুকাজ করানো হয়। জানা গিয়েছে নেল এক্সটেনশনের সময় নেইল জেল শুকনোর জন্য ব্যবহার করা হয় এলইডি আলো। আর এখানেই তৈরি হয় ক্যান্সারের ঝুঁকি। এলইডি ল্যাম্প থেকে বেরোনো অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের সংস্পর্শে আসে এবং ডিএনএ এবং কোষের ক্ষতি করে। এর জেরে ত্বকে দ্রুত বার্ধক্য আসে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হয়। এক্ষেত্রে কী করা উচিত, দেখে নেওয়া যাক।
কী কী করা উচিত?
- যেহেতু এলইডি লাইট থেকে অতিবেগুনি রশ্মি নিঃসৃত হয় সেক্ষেত্রে হাতে বেশি করে সানস্ক্রিন মেখে নিতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় ৩০ বা তার বেশি SPF যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা। যার ফলে ত্বককে UV রশ্মির হাত থেকে সুরক্ষিত যেমন রাখবে ঠিক তেমনি ক্যান্সারের হাত থেকেও রক্ষা করবে।
- যত বেশি নেল এক্সটেনশন করাবেন তত বেশি শরীরে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। তাই ঘন ঘন নেল এক্সটেনশন করালে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। পাশাপাশি আসল নখ নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি নখের এনামেল সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যাবে। তাই নেল এক্সটেনশন না করানোই ভালো। এছাড়াও যাঁদের পাতলা বা ভঙ্গুর নখ তাঁদের এইসব এক্সটেনশন এড়িয়ে চলাই ভালো।
আরও পড়ুন: চশমা নাকি লেন্স? চোখের সুরক্ষায় কোনটি বেশ কার্যকরী জানুন
- নেল এক্সটেনশনের পরে যদি নখ বা কিউটিকলের আশপাশে লালচে ভাব, ফোলা বা পুঁজ দেখা যায়, তাহলে শীঘ্রই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। পাশাপাশি জেল পলিশ দেওয়ার পর চুলকানি বা র্যাশ হলে এবং নখের রং ও টেক্সচারে হঠাৎ পরিবর্তন আসলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখান।
- বাজারে UV প্রোটেক্টিভ গ্লাভস ব্যবহার করতে পারেন। পুরো হাতে গ্লাভস পরে শুধু নখের অংশটুকু কেটে নিতে হবে। এতে হাত দু’টো সরাসরি অতিবেগনি রশ্মির সংস্পর্শে আসবে না। তবে সবচেয়ে ভালো যত এগুলি কম ব্যবহার করবেন ততই ভালো।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ সংগৃহীত প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আরও বিস্তারিত জানতে হলে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।