জীবন নরক করে দেয় এরা! এই ধরণের মানুষের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ চাণক্যনীতিতে

অনন্যা সরকার, কলকাতা: আচার্য চাণক্য (Acharya Chanakya) ছিলেন প্রাচীন ভারতের এমন এক পণ্ডিত, যাঁর প্রণীত ‘চাণক্য নীতি’ (Chanakya Niti) হাজার হাজার বছর পরও মানুষের জীবনে প্রাসঙ্গিক। কারণ তিনি মানুষের আচরণ ও মানসিকতাকে বিশ্লেষণ করে এই নীতিগুলি রচনা করেন। চাণক্য নীতিতে রয়েছে এমন একটি শ্লোক, যা প্রকাশ করে যে কোন ধরনের মানুষ আপনার জীবন ধ্বংস করতে পারে। এই ধরনের মানুষদের সঙ্গে থাকা মৃত্যুর সমতুল্য বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তাই, আচার্য চাণক্যের নীতি অনুসরণ করে জীবনে কাদের এড়িয়ে চলবেন জেনে নিন। 

চাণক্য নীতির শ্লোক

দুষ্টাভার্য্য শঠং মিত্রং ভৃত্যশ্চোত্তরদায়কঃ ।

সংসার্প চ গৃহে বাসো মৃত্যুরেভ নঃ সংশয়ঃ ।।৫।।

এই শ্লোকটি রয়েছে চাণক্য নীতির প্রথম অধ্যায়ে। এর মাধ্যমে আচার্য চাণক্য এমন কিছু ব্যক্তির বর্ণনা দিয়েছেন, যার সঙ্গে জীবনযাপন করা মৃত্যুর চেয়ে কম কিছু নয়। শ্লোকের প্রথমেই রয়েছে একজন অসৎ স্ত্রী বা জীবনসঙ্গীর কথা। কারোর জীবনসঙ্গীই যদি সঠিক না হয়, তবে তার জীবন নরক হয়ে উঠতে পারে। তাই এমন সঙ্গীকে ত্যাগ করার উপদেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও এই শ্লোকে বলা হয়েছে যে, শত্রুর চেয়ে কোনো অংশে কম নয় একজন মিথ্যাবাদী বা দুষ্ট প্রকৃতির বন্ধু। মিথ্যাবাদী বন্ধুকে অবিলম্বে ত্যাগ করা উচিত। কারণ এই ধরণের মানুষ শুধু নিজেদের জন্যই সমস্যা তৈরি করে না বরং ওপরের জীবনও দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। 

আরও পড়ুনঃ যেন এক টুকরো চিন, বর্ষায় ঘুরে আসুন বাংলার কাছের ‘মিনি তিব্বত’ থেকে

প্রাচীনকালে ভারতের বহু মানুষের বাড়িতেই দৈনন্দিন কাজের জন্য ভৃত্যেরা থাকতেন। এযুগেও পরিচারক/পরিচারিকাদের কাজের সুবিধার্থে রাখা হয়। তবে আচার্য চাণক্য বলছেন, যদি ভৃত্যের মেজাজ খারাপ হয়, তবে তা প্রভুর জীবনেও সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে। তাই, পরিচারক নিয়োগের আগে সবসময়ই ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত। আচার্য চাণক্য তার শ্লোকটিতে এই ধরনের ব্যক্তিদের বিষধর সাপের সঙ্গে তুলনা করেছেন, কারণ সাপের সাথে বাস করা সাক্ষাৎ মৃত্যুর সমান। 

Leave a Comment