প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রুদ্ধশ্বাস তদন্ত! অবশেষে বারুইপুর নাবালিকা খুন ও ধর্ষণের (Baruipur Minor Rape Case) অভিযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হল মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে। রবিবারই তদন্তে ৬ সদস্যের সিট (SIT) গঠন করার পরেই তদন্তে গতি বাড়ানো হয়েছিল। যার ফলেই আজ দুপুরের মধ্যেই পুলিশের জালে ফাঁসল মূল অভিযুক্ত। সূত্রের খবর, আনন্দকে বারুইপুর (Baruipur) বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। এইমুহুর্তে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩।
গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা এবং তার পরবর্তী গণপিটুনিকে কেন্দ্র করে রীতিমত উত্তাল পরিস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে। ঘটনার সঠিক বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য গতকালই জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছিল। এরপরই শুরু হয় তদন্ত, আগেই প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার এই ২ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ এবং তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার। বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে আনন্দকে পাকড়াও করা হয়।
ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দেওয়ার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
বারুইপুরের ঘটনায় নির্যাতিতার যাতে সঠিক বিচার মেলে সেই নিয়ে আজ সকালেই বড় আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছিলেন যে, “এটি একটি জঘন্যতম ঘটনা। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মোট চারটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। নাবালিকা খুনের পাশাপাশি গণপিটুনি এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাতেও সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু হয়েছে। অপরাধীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট সুনিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।” ইতিমধ্যেই বারুইপুর ও লাগোয়া এলাকায় বিএনএস-এর ১৬৩ ধারা লাগু হয়েছে। মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রুখতে বারুইপুর, সোনারপুর এবং নরেন্দ্রপুর থানা এলাকাকে এই ধারার আওতায় আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণকেও দেওয়া হয়েছে SC সার্টিফিকেট! দুয়ারে সরকারকে নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক
উত্তপ্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উচ্চপদস্থ এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “আপাতত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে এবং এলাকায় শান্তি যাতে বজায় থাকে তাই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। এছাড়াও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে গুজবে কান না দেওয়ার এবং শান্তিভঙ্গের চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আজ সকালে কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধিদল নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য বারুইপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।