অনন্যা সরকার, নয়া দিল্লি: গত কয়েক মাসে এটিএম (ATM)-এ গিয়ে টাকা না পাওয়ার সমস্যায় পড়েছেন বহু গ্রাহক। প্রায় তিন মাস ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এটিএম গুলোতে নগদ টাকার আকাল পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) একটি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ও এটিএম নেটওয়ার্কে নগদ টাকার উপলব্ধতা নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করা হয়েছে। দেশের অনেক জায়গাতেই সাধারণ নাগরিককে নগদ টাকা তোলার জন্য একাধিকবার নানান এটিএম-এ যেতে হচ্ছে, এই খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে আরবিআই। দেশের ব্যাংকগুলি পর্যাপ্ত নগদ সংরক্ষণ করছে কিনা, সেটাই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খালি দেশের অধিকাংশ এটিএম
সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, টিয়ার ২ সিটি (Tier-2 City) এবং ছোট শহরগুলিতে এটিএম রিফিল করার গতি কমে যাওয়ার ফলে নগদ টাকার সংকট চরমে উঠেছে। সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) সহ বেশ কিছু ব্যাঙ্কের গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের এটিএমগুলিতে বেশ কিছুদিন ধরেই টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রাহক পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার কারণে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে আরবিআই। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক বর্তমানে সমস্ত ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চগুলিতে কত টাকা মজুদ রয়েছে, তার হিসেব চেয়ে পাঠিয়েছে। আরবিআই কড়া ভাষায় জানিয়েছে, যদি দেখা যায় ব্যাঙ্কগুলি সময়মতো এটিএম রিফিল করতে ব্যর্থ হচ্ছে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এটিএম খালি থাকায় শুধুমাত্র সাধারণ মানুষজনই নয়, এই কাজের সাথে জড়িত ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোতেও প্রভাব পড়ছে। জানা গেছে, গত কয়েক মাসে এই কোম্পানিগুলো বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তারাও জানাচ্ছে, এটিএম রিফিল করার জন্য ব্যাঙ্কগুলি তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে নগদ সরবরাহ করছে না। ফলে, কার্যকরী থাকা সত্ত্বেও এটিএমগুলি খালি পড়ে থাকছে। অন্যদিকে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষরা ভিন্ন যুক্তি দিচ্ছে। আর বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এটিএম চালানো বর্তমানে খুবই ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের জেরে দক্ষিণবঙ্গের ২ জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা, আজকের আবহাওয়া
সম্প্রতি এটিএম ইন্ডাস্ট্রির সাথে যুক্ত সংস্থা, কনফেডারেশন অফ এটিএম ইন্ডাস্ট্রি (CATME), এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত জুন মাসেই সংস্থাটি ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন (IBA)-কে পর্যাপ্ত পরিমানে নগদ টাকা সরবরাহ করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছিল। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল ও মে মাসে এটিএম-এ নগদের পরিমাণ মোট পরিমাণের ৫৭ শতাংশ থেকে ৬৪ শতাংশের মধ্যে ছিল, অর্থাৎ অনেকটা পরিমাণ খালি ছিল। এই দুই মাসে অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক এটিএম খালি পাওয়া গেছে। যদিও, ওই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে আরবিআই বা এসবিআই-এর তরফ থেকে কোনো বিবৃতি সামনে আসেনি।