চাকরি ছেড়ে আধুনিক চাষাবাদে মন, স্মার্ট ব্যবসা করে মাসে মোটা আয় কৃষকের

অনন্যা সরকার, জয়পুর: আধুনিক প্রযুক্তি সঠিক প্রয়োগ করলে যে অনুর্বর জমিতেও যে সোনা ফলানো যায় তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন রাজস্থানের জয়পুর জেলার বাসিন্দা হনুমান সিং খাঙ্গারোট (Agriculture Success Story)। নোনা মাটি ও স্বল্প বৃষ্টিপাতের জন্য পরিচিত শম্বর হ্রদের (Sambhar Lake) চারপাশের বিস্তৃর্ণ এলাকা এখন হনুমান সিং-এর প্রচেষ্টায় সমন্বিত কৃষি মডেলের (Integrated Agricultural Model) একটি অন্যতম সফল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মাস মাইনের চাকরি ছেড়ে তাঁর এই কঠিন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ও তাতে সফল হয়ে দেখানো ওই এলাকার বহু চাষীর মনে আশা জাগিয়েছে। আসুন হনুমান সিং খাঙ্গারোট-এর কৃষিকাজের এই সফল যাত্রাটির সর্ম্পকে বিশদে জেনে নেওয়া যাক। 

চাকরি ছেড়ে শুরু অনুর্বর মাটিতে কৃষিকাজের লড়াই

নিউজ ১৮ হিন্দির রিপোর্ট অনুযায়ী, জয়পুরের জয়সিংহপুরা গ্রামের বাসিন্দা হনুমান সিং আগে শহরে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন, কিন্তু সীমিত সঞ্চয় এবং কৃষিকাজের প্রতি প্রবল আগ্রহ তাকে গ্রামে ফিরিয়ে আনে। তার নিজের প্রায় ৯ হেক্টর জমি ছিল, যেখানে তিনি পোল্ট্রি পালন শুরু করেন। কারণ ওই শিল্পে বেশি জলের দরকার পড়ে না। পোল্ট্রি থেকে আসা নিয়মিত আয় তাকে আর্থিক স্থিতিশীলতা এনে দেয় এবং এখন থেকেই আধুনিক কৃষির দিকে তার শুরু হয়।

পোল্ট্রির পর তিনি নিজের জমিতে পলিহাউস (Polyhouse farming) প্রযুক্তির সাহায্যে ক্যাপসিকাম, টমেটো শসার মতো লাভদায়ক সবজির চাষ শুরু করেন। রাজ্যের কৃষি বিভাগের সাহায্য, তিনি স্বল্প বৃষ্টি ও লবণাক্ত জলের সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে তার ফার্মে ২,০০,০০০ লিটারের একটি পুকুর তৈরি করেন। এটি সেচের সমস্যা পুরোপুরিভাবে মিটিয়ে দেয়। 

কৃষিকাজকে সম্পূর্ণরূপে আত্মনির্ভরশীল করতে, তিনি খামারে একটি ২২ কিলোওয়াটের সোলার পাম্প সিস্টেম স্থাপন করেন। এটি তাপবিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণরূপে দূর করে এবং সেচ সহ অন্যান্য কাজের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। হনুমান সিং কৃষিকে সরাসরি উপভোক্তাদের সাথে সংযুক্ত করতে হাইওয়েতে নিজের একটি রেস্তোরাঁও খোলেন, আর সেখানে নিজের খামারে উৎপাদিত তাজা সবজি এবং দুগ্ধজাত পণ্য পরিবেশ করা শুরু করেন। এই ‘ফার্ম-টু-টেবিল’ (Farm to Table) মডেলটিই এখন তার মোটা আয়ের একটি প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে।

হনুমান সিং খাঙ্গারোট কৃষিকাজ, পশুপালন, ডেয়ারি ফার্ম এবং গার্ডেনিংকে এক জায়গায় এনে একটি “জিরো ওয়েস্ট” মডেল তৈরি করেছেন, যেখানে একটি কাজের বর্জ্য অন্য কাজে ব্যবহৃত হয়। পশুর গোবর থেকে তৈরি জৈব সার জমিতে ব্যবহৃত হয়, আর কৃষিক্ষেত্র থেকে আসে গবাদি পশুর খাদ্য। এর ফলে তার ফার্মে রাসায়নিক সার এবং কীটনাশকের খরচ প্রায় নেই বললেই চলে। 

আরও পড়ুনঃ দিনমজুর মায়ের কৃতী মেয়ে, একুশ বছর বয়সে IPS, ২২-এ ফের UPSC ক্লিয়ার করে হন IAS

হনুমান সিংয়ের এই সফল পরীক্ষা দেখে আশেপাশের কৃষক এবং বিভিন্ন প্রতিনিধিদল নিয়মিত তার খামার পরিদর্শন করতে আসেন। এটি দেখে তাঁর পরিবার বর্তমানে এই আধুনিক খামারটিকে একটি “কৃষি-পর্যটন” কেন্দ্রে পরিণত করার জন্যও কাজ করছে, যাতে অন্য কৃষকেরা বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ সর্ম্পকে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করতে পারেন।

Leave a Comment