অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতীয় রেলের ট্রেনে ফার্স্ট ক্লাস এসি কোচের (1st AC Coach) একটি কেবিনকে ফুলসজ্জার সাজে সাজানো নিয়ে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে বিতর্ক। সম্প্রতি একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (Viral Video) হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একটি এসি কোচের কেবিনকে অসংখ্য ফুল ও সাজসজ্জার সরঞ্জাম দিয়ে হানিমুন রুমের মতো করে সাজানো হয়েছে। ভিডিওটি সামনে আসতেই রেল প্রশাসন (Indian Railways) ওই ট্রেনের সংশ্লিষ্ট টিকিট পরীক্ষককে (Ticket Checker) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।
ট্রেনের কেবিন হয়ে গেল হানিমুন স্যুট
গত ৬ জুলাই ১১০০২ নম্বর নন্দীগ্রাম এক্সপ্রেসে ভ্রমণরত এক দম্পতি তাদের যাত্রার অভিজ্ঞতাকে বিশেষ করে তোলার জন্য এক ব্যক্তিগত ডেকোরেটরকে অনলাইনে বুক করেন। ডেকোরেটার এসে তাদের ফার্স্ট ক্লাস এসি কোচের কেবিনটিকে ‘ফুলশয্যার ঘরের’ মতো সাজিয়ে দেয়। এই ঘটনার ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় রেল কর্তৃপক্ষের তরফে। তারা জানিয়েছে, এই ঘটনায় গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি হয়েছে। ট্রেনের সুরক্ষা বিষয়টি অবহেলার করার জন্য সংশ্লিষ্ট টিকিট পরীক্ষককে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং বিস্তারিত বিভাগীয় তদন্ত শুরু করারও নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
Honeymoon coach on Indian Railways. Ticket checker suspended.
South Central Zone
A couple travelling in Train No. 11002 Nandigram express on 6/7/26 had privately engaged a decorator online to decorate their 1st AC coupe.
The decorator’s entry into the coach was… pic.twitter.com/1ati4A13G4
— Rajendra B. Aklekar (@rajtoday) July 8, 2026
যদিও রেলওয়ে প্রশাসন জানিয়েছে, যাত্রীদের কেবিন সাজানো নিয়ে ভারতীয় রেল কোনো আপত্তি জানায় না। টাকা খরচ করে বুক করা ট্রেনের কেবিন যাত্রীরা সাজাতে চাইলে, তাতে হস্তক্ষেপ করে না রেল কর্তৃপক্ষ। কে কিভাবে ভ্রমণ করতে চান সেটা সম্পূর্ণই তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তাই কেবিন সাজানোয় রেলের কোন আইন ভঙ্গ করা হয়নি।
আরও পড়ুনঃ আরও নিরাপদ ও স্মার্ট! বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের কোচে বড় পরিবর্তন আনছে রেল
এক্ষেত্রে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে অনধিকার প্রবেশকে কেন্দ্র করে। ট্রেনের কেবিন সাজানোর জন্য একজন বহিরাগত ডেকোরেটরকে ডাকা হয়। তিনি অনায়াসেই ট্রেনের মধ্যে ঢুকে তার কাজ করে বেরিয়ে আসেন। রেল প্রশাসন জানিয়েছে যে, ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর এসি কোচে ওই বেসরকারি ডেকোরেটরের প্রবেশ অননুমোদিত ছিল। আর অনুমতি ছাড়া ভিআইপি কোচে ঢোকা রেলের নিরাপত্তা আইনের পরিপন্থী। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পর তার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।