সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের অন্যতম বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) কুডানকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টকে (Kudankulam Nuclear Power Plant) ঘিরে এবার তৈরি হল বড়সড় সাইবার নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ। একটি হ্যাকার গোষ্ঠী দাবি করছে যে, তারা এই প্রকল্প সংক্রান্ত ১৯ হাজারের বেশি সংবেদনশীল নথি নাকি ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করেছে। যদিও সরকারি তদন্ত এখনও পর্যন্ত চলছে। কিন্তু ঘটনাটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি হতে পারে।
কী দাবি করছে ওই হ্যাকার গোষ্ঠী?
‘World Leaks’ নামে পরিচিত একটি হ্যাকার গোষ্ঠীর দাবি যে, তারা কুডানকুলাম প্রকল্প সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। এমনকি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নথিগুলি প্রায় ৮.৮ লক্ষ ফাইলের একটি বিরাট বড় ডেটাসেটের অংশ, যা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত একটি ঠিকাদারি সংস্থার সার্ভার থেকে চুরি করা হয়েছে বলেই অভিযোগ। এমনকি সংশ্লিষ্ট সংস্থা জানিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের একটি ডেটা সেন্টারের সীমিত পরিসরে ডেটা লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই সরকারের নজরে আনা হয়েছে। কিন্তু ঠিক কোন ধরনের তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে বিষয়ে এখনও জানা যায়নি।
কিন্তু প্রতিবেদন অনুযায়ী, নথিগুলির মধ্যে থাকতে পারে ভেন্টিলেশন বা কুলিং সিস্টেমের প্রকৌশলের নকশা, কন্ট্রোল রুমের ফ্লোর প্ল্যান, যন্ত্রপাতি পরিদর্শনের রিপোর্ট, সরবরাহকারী ও ভেন্ডারদের সমস্ত তথ্য, প্রকল্প সংক্রান্ত বৈঠকের নথি, আর বীমা এবং প্রশাসনিক নথিপত্র। যদিও এই সমস্ত নথির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এমনকি এও জানা গিয়েছে, ফাঁস হওয়া অধিকাংশ নথি কুডানকুলাম প্রকল্পের ইউনিট ৩ এবং ইউনিট ৪ এর সঙ্গে সম্পর্কিত। আর এই দুটি ইউনিট এখনও নির্মাণাধীন এবং ২০২৭ সালের মধ্যেই চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী জানা গিয়েছে, পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের মূল প্রযুক্তিগত নকশা বা কোর ডিজাইনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য এর মধ্যে হয়তো নেই।
আরও পড়ুন: অনলাইনে কীভাবে চেক করবেন কৃষক বন্ধুর স্ট্যাটাস? জেনে নিন উপায়
তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের তথ্য ফাঁস ভবিষ্যতে বড় ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ, প্রকল্পের অবকাঠামো, সরবরাহ ব্যবস্থা আর সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কোনও সাইবার হামলাকারীর হাতে গেলে তা পরবর্তী সময়ে হামলার পরিকল্পনায় ব্যবহার করা হতে পারে। কিন্তু এখনও কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল রিঅ্যাক্টর বা অপারেশনাল সিস্টেমে সরাসরি কোনও অনুপ্রবেশ ঘটেছে কিনা। যদিও এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ভারতীয় কম্পিউটার এমার্জেন্সি রেসপন্স টিম এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড।