কলকাতার স্কুল ছাত্রী পেল বিশ্বসেরার খেতাব! আন্তর্জাতিক স্তরের পরীক্ষায় ফুল মার্কস রোশনীর

অনন্যা সরকার, কলকাতা: এবার ‘বিশ্বসেরা’-র তকমা পেলেন বাংলার ছাত্রী। ‘ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালোরেট ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম’ (IBDP)-এ গ্লোবাল টপার (Global Topper) হয়েছেন কলকাতার হেরিটেজ স্কুলের ছাত্রী রোশনী হামিরওয়াসি। তিনি এই আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় (Pre-university) কোর্সের পরীক্ষায় ৪৫ নম্বরের মধ্যে ৪৫ নম্বর, অর্থাৎ ফুল মার্কস পেয়েছেন। আর এরকম দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি  মাস্টার্স ডিগ্রি কোর্স করারও সুযোগ পেয়েছেন। তিনি ছাড়াও, হেরিটেজ স্কুলের আরও দুই পড়ুয়া এই পরীক্ষায় দুর্দান্ত ফল করেছেন। এরমধ্যে রুশিল চারির  প্রাপ্ত নম্বর ৪৪ নম্বর, আর ভাব্য শরাফ পেয়েছে ৪১। সবমিলিয়ে হেরিটেজ স্কুলের প্রাপ্ত গড় নম্বর ৩৫।

হেরিটেজ স্কুলের ছাত্রীর বিশ্বসেরার স্বীকৃতি 

ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালোরেট ডিপ্লোমা প্রোগ্রামের (IBDP) পরীক্ষায় তাদের সকল পড়ুয়াদের সাফল্যে হেরিটেজ স্কুল কর্তৃপক্ষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে যে, অসাধারণ কৃতিত্ব ও নিষ্ঠা এই বিশ্বমানের সাফল্য এনে দিয়েছে। শিক্ষাগত উৎকর্ষতা, অধ্যবসায় ও সর্বদা শেখার মানসিকতা থাকার ফলেই স্কুলের পড়ুয়ারা এই অসাধারণ ফল অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে। গ্লোবাল টপার রোশনি হামিরওয়াসিয়া, রুশিল চারি এবং ভাব্য শরাফ সহ দ্য হেরিটেজ স্কুলের IBDP-র ২০২৬ ব্যাচকে অভিনন্দন জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। 

সেইসঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তাদের স্কুলের ‘ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালোরেট ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম’-এর এই ব্যাচ উৎকর্ষতার যে স্ট্যান্ডার্ড সেট করেছে, তা পুরো হেরিটেজ পরিবারকে অনুপ্রাণিত করেছে। এই সাফল্য অর্জনে সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে স্কুলের তরফে। 

IBDP কোর্স কী?

আইবিডিপি হল মূলত একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য ডিজাইন করা একটি আন্তর্জাতিক স্তরের কোর্স। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কোর্সের বিশেষ মর্যাদা আছে। এই ডিপ্লোমা অর্জন করলে বিশ্বের যে কোনও বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে সহজেই ভর্তির সুযোগ পাওয়া যায়। পরীক্ষাটির পাঠ্যক্রমে মোট ছ’টি বিষয় থাকে, এগুলি হল কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স, অঙ্ক, ইকোনমিক্স, স্প্যানিশ এবং ইংরেজি। 

আরও পড়ুনঃ ইলন মাস্কের কারণে যায় চাকরি, আজ ১৬ হাজার কোটির সাম্রাজ্যের মালিক IIT পাস পরাগ

বিশেষজ্ঞরার জানাচ্ছেন, মুখস্থবিদ্যাকে সরিয়ে রেখে এই বিশেষ কোর্সে গবেষণা, স্বাধীন চিন্তাভাবনা এবং বাস্তব জীবনের দক্ষতার বিকাশের ওপরে জোর দেওয়া হয়। কোর্সটির তিনটি মূল ভিত্তি হল – ৪,০০০ শব্দে গবেষণামূলক প্রবন্ধ লেখা, জ্ঞানের প্রকৃতি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা এবং পড়াশোনার বাইরেও বিভিন্ন সামাজিক ও সৃষ্টিশীল কাজে অংশ নেওয়া।

Leave a Comment