সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অযোগ্য সত্ত্বেও কৃষক বন্ধু (Krishak Bandhu) প্রকল্পের টাকা এতদিন দেদার পেয়েছেন ‘নামে কৃষক’ ব্যক্তিরা। তৃণমূলের আমলে এই প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি কম হয়নি। শহরে বড় ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবী অথচ গ্রামের জমি দেখিয়েই পেয়েছেন কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা। এমনকি চাষযোগ্য জমি না থাকা সত্ত্বেও অনেকে এই প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন বলেই অভিযোগ। এবার সেই সমস্ত কৃষকদেরই টাকা ফেরানোর নোটিশ পাঠানো হচ্ছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা ফেরানোর নোটিশ
উল্লেখ্য, এই প্রকল্পে ১ একর কিংবা তার বেশি জমি থাকলে কৃষকরা সর্বাধিক ১০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পান, এবং রবি ও খরিফ দুই মরসুম মিলিয়ে টাকা দেওয়া হয়। ২০০০ টাকা করে কিস্তি পাঠানো হয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। তবে এবার একাধিক ব্যক্তিকে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য। সম্প্রতি মালদার কালিয়াচকের এক বাসিন্দাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, সেখানে তাকে ৩২ হাজার টাকা ফেরত পাঠানোর নির্দেশ হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ রয়েছে, ‘আপনাকে জানানো যাচ্ছে যে আপনি অযোগ্য কৃষক, কিংবা ইনকাম ট্যাক্স প্রদানকারী বা ভুল অ্যাকাউন্ট তথ্য দিয়ে কৃষক বন্ধুর সুবিধা নিয়ে আসছিলেন। ১৭ জুন পাঠানো ওই নোটিশে আরও উল্লেখ করা রয়েছে, এই পরিবারের প্রধান এতদিন মোট ৩২ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। ১৬ কিস্তিতে মোট ২০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তবে অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ভাতার টাকা। সেই কারণে আগামী ৭ দিনের মধ্যেই এই ৩২ হাজার টাকা ফেরত দিতে হবে।
আরও পড়ুন: বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ব্যাংকের মধ্যে ৭টিই এই দেশের! তালিকায় ভারত কোথায়?
তবে শুধু তাই নয়, কাটোয়া ১ ব্লকের আলমপুরের বহু মহিলা ও পুরুষের ১ ছটাক জমি না থাকা সত্ত্বেও অ্যাকাউন্টে বছরে ৪৯০০ টাকা করে দু’বার করে জমা পড়েছে বলে দাবি করছে এক প্রতিবেদন। কারও কারও বছরে ১০ হাজার টাকা করেও ঢুকেছে। তাদের অভিযোগ, গ্রামের এক ব্যক্তি ব্লকে ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের কাজ করেন। তিনিই নাকি কারচুপি করে অযোগ্য উপভোক্তদেরকে এই প্রকল্পে নথিভুক্ত করেছেন। তাদেরও খুব শীঘ্রই এই টাকা ফেরত দিতে হবে বলেই জানা যাচ্ছে প্রশাসন সূত্রে।