সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আজ ২০ দিন অনশনে লাদাখের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। শারীরিক অবস্থা দিনের পর দিন অবনতির দিকে এগোচ্ছে তাঁর। এমনকি তাঁর এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত গোটা দেশের রাজনীতি। এবার তাঁরই সমর্থনে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা চত্বরে ধর্নায় বসল কালীঘাট তৃণমূল। এমনকি সেখানে কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ঘাসফুল শিবিরের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন নেতা রয়েছেন।
ওয়াংচুকের অনশন ঘিরে বিক্ষোভ কালীঘাট তৃণমূলের
কয়েকদিন আগেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সোনম ওয়াংচুকের কথা হয়েছে বলে খবর। সেই সূত্রেই শুক্রবার বিধানসভা চত্বরে একেবারে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে ধর্নায় বসে পড়েন তৃণমূলের ৮ নেতা, যাদের মধ্যে কুণাল ঘোষ, খলিফ আহমেদ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অশোক দেব সহ আরও বেশ কয়েকজন রয়েছেন। তাঁদের মুখপাত্র হিসাবে কুণাল ঘোষ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, “সোনম ওয়াংচুক লাগাতার অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে তাঁর শরীর এবং স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে, এবং দিদি এই লড়াইয়ে সমর্থন জানিয়েছেন।”
কুণাল ঘোষের আরও সংযোজন, “নেত্রীর নির্দেশে আমাদের প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। অবিলম্বেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হবে। পাশাপাশি মেডিকেল টিম পাঠাতে হবে। আর তাঁর দাবিগুলি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে হবে।” পাশাপাশি এদিন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সোনম ওয়াংচুকের অনশনকে সমর্থন করে ক্ষোভ উগড়ে দেন। তাঁর কথায়, “এই বিধানসভা বহু ইতিহাসের সাক্ষী। বিশ্ব এবং দেশের বহু আন্দোলনকে সমর্থন জানানো হয়েছে। সোনম ওয়াংচুক জেনুইন আন্দোলন করছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে যে হারে দুর্নীতি চলছে, সেই ব্যাপারেই তিনি একজন মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করেছেন।”
আরও পড়ুন: মিলবে ১ লক্ষ টাকা, এই জেলার ৩৫ হাজার মহিলাকে লাখপতি বানাবে সরকার
তাঁর আরও সংযোজন, “বর্তমানে তিনি কোনও দলের লোক নন, এবং ভারতবর্ষের কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। আজ ১৯ দিন হয়ে গেছে উনি অনশন করছেন। যিনি বা যারা সরকারে থাকেন তাঁদের একটা দায়বদ্ধতা থাকে। কেন্দ্র সরকার এ ব্যাপারে কোনও একটা রাস্তা তো খুলতে পারে। এমন একজন মানুষ যিনি পরিবেশ আর শিক্ষার বিষয়ে আন্দোলন করছেন। অথচ কেন্দ্র সরকার চুপ। ওনার যদি কোনও একটা দুর্ঘটনা ঘটে যায় তাহলে সারা দেশবাসী হারে হারে টের পাবে। আমরা সকলেই ওনার পাশে রয়েছি।”