অনশন প্রত্যাহারে রাজি সোনম ওয়াংচুক, তবে মানতে হবে ৩ শর্তের মধ্যে একটি

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ, সংসদ ভবন অভিযানের কথা, ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janata Party)। আর তার আগেই অনশন প্রত্যাহারে রাজি হলেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। তবে সেটার জন্য তিনি সরকারকে দিলেন তিনটি শর্ত। স্পষ্ট জানিয়েছেন যে কোনও একটি শর্ত পালন করলেই অনশন প্রত্যাহার করতে রাজি তিনি। ইতিমধ্যেই ভাইরাল হাসপাতাল থেকে তাঁর লেখা সেই চিঠির প্রতিলিপি।

নিজের হাতে চিঠি লিখলেন ওয়াংচুক

সূত্রের খবর, অনশনের ২২তম দিনে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় শুয়ে নিজের হাতে চিঠি লিখেছিলেন সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। আজ, সোমবার, ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির তরফে সংসদ ভবন অভিযানের যে ডাক দেওয়া হয়েছে, তা সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয় এই আন্দোলনকে তিনি ভারতের ‘স্বাধীনতার দ্বিতীয় আন্দোলন’ বলে উল্লেখ করেছেন। লেখা সেই চিঠিতে সোনম ওয়াংচুক তিনটি শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন আন্দোলন প্রত্যাহার করার জন্য। তিনি স্পষ্ট বলেছেন যদি, এই তিন শর্তের মধ্যে যে কোনও একটি সরকার পালন করে তাহলে অনশন প্রত্যাহার করা হবে।

দিলেন তিনটি শর্ত

চিঠিতে বন্ধু ও সমর্থকদের উদ্দেশে সোনম ওয়াংচুক লিখেছিলেন যে, “আপনারা জানতে চাইছেন আমি অনশন কবে ভাঙব। কিন্তু আমি আগেই বলেছিলাম যে ২০ জুলাই অনশন আমি ভাঙতে পারি যদি তিনটি শরতের মধ্যে একটি মানা হয়। প্রথমত, প্রশ্নফাঁস সহ সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া যাবতীয় শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে সরকার। দ্বিতীয়ত, যদি আমি এবং ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব সংসদে যেতে পারি এবং নেতা মন্ত্রীরা আমাদের সঙ্গে দেখা করে আশ্বাস দেন যে, এই বিষয়টা নিয়ে সংসদে আলোচনা করা হবে। এবং তৃতীয়ত, শারীরিক বা অন্যান্য কারণ আমি বা আমার বন্ধুরা সংসদ পর্যন্ত যেতে না পারলেও, যেন রাজনৈতিক দলের নেতা সাংসদেরা আমার সঙ্গে এই হাসপাতালে এসে দেখা করেন এবং আমাদের ভরসা দেন যে, সংসদের বাদল অধিবেশনে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে এবং বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।”

সরকারের তরফে মেলেনি কোন প্রতিক্রিয়া

শিক্ষা দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে অনশন করছেন সোনম। রবিবার তাঁর অনশনের ২২তম দিন। গীতাঞ্জলি জানিয়েছেন, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেও সোনমের অনশন ভাঙানো যায়নি। তিনি মিষ্টি কিছু খাননি। কেবল নুনজল খাচ্ছেন। দীর্ঘ অনশনের কারণে স্বাভাবিক নিয়মেই সোনমের শরীর দুর্বল হয়েছে। তবে তাঁর মনের জোর এখনও আগের মতোই আছে। এদিকে এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ, বা আলোচনায় বসার প্রস্তাব রাখা হয়নি। এমনকি কোনও সরকারি নেতা-মন্ত্রীকেও এখনও দেখা যায়নি যন্তর মন্তরের অনশন মঞ্চে।

আরও পড়ুন: তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়ারা বাংলায় পড়তে-লিখতে না পারলেই শাস্তি শিক্ষকদের! বড় সিদ্ধান্ত

উল্লেখ্য, শনিবার যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে গিয়ে সোনমকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। এরপর যন্তর মন্তরের সামনে নতুন করে অনশন শুরু করেছিলেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে। আজ তাঁরা সংসদ ভবন অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে দিল্লি পুলিশ এখনও এই ধরনের কোনও কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। উল্টে নয়া দিল্লি জেলা জুড়ে জারি করা হয়েছে BNS-এর ১৬৩ ধারা। এখন দেখার আজকের এই সংসদ অভিযান কোন দিকে মোড় নেয়।

Leave a Comment