সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নির্বাচনের আগেই ইস্তেহারে চাকরি দেওয়ার কথা দিয়েছিল বিজেপি। সরকার গঠন করেই একের পর এক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে তারা। এবার পঞ্চায়েতে নিয়োগের কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাও একধাক্কায় ১১ হাজার কর্মী নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে কর্মীর আকাল পড়েছে। সেই সূত্রেই সোমবার নিজে এ কথা জানালেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী।
পঞ্চায়েতে নিয়োগ হবে ১১ হাজার কর্মী
আগে সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত দফতরের তরফ থেকে নিয়োগ করা হত। কিন্তু রাজ্যে সরকারের পালাবদলের পরেই এবার নিয়োগে প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ বদল আনা হয়েছে। দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, এতদিন যেখানে পঞ্চায়েত আইনের মাধ্যমে জেলা থেকে নিয়োগ হত, এখন তা হবে সরাসরি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ করা হবে এবার। পিএসসির মাধ্যমে মোট ১১ হাজার শূন্যপদে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলবে বলে জানানো হয়েছে। এমনকি ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই শুরু হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া। সেক্ষেত্রে যারা যোগ্যতা পূরণ করতে পারবে তারা আবেদন করতে পারবে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ডব্লিউবিসিএস, মিসলেনিয়াস, ক্লার্ক ইত্যাদি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। তবে এবার পঞ্চায়েতে নিয়োগের দায়িত্ব সম্পূর্ণ পিএসসি-র হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আবার কিছু আইনি সংশোধন দরকার। সেই প্রক্রিয়া ডিসেম্বরে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী আগেই ১ লক্ষ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে পিএসসির এই আইন সংশোধন হলেই ধাপে ধাপে কর্মী নিয়োগ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেষমেশ CJP-র সাথে বৈঠকে বসছে কেন্দ্র, অনশন ভাঙলেন অভিজিৎ দীপকে
না উল্লেখ করলেই নয়, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর পঞ্চায়েত কিংবা পৌরসভা, বোর্ড ভেঙেছে প্রায় সবজায়গায়। এমনকি তৃণমূলের কর্মীরা বেশিরভাগই ইস্তফা দিয়েছেন। সেই কারণে কর্মীর অভাবে ভুগছে রাজ্যের পঞ্চায়েতগুলি। যদিও এখনও পর্যন্ত বেশিরভাগ পঞ্চায়েত তৃণমূলের দখলে। কিন্তু কর্মীর সংকটের কারণে প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। সেই কারণেই এবার পিএসসির মাধ্যমে ১১ হাজার কর্মী নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী।