এদের তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে সরকার, বীরভূমে ইতিমধ্যেই একাধিকের রেশন কার্ড ব্লক

অনন্যা সরকার, কলকাতা: বীরভূম জেলায় বেছে বেছে উপভোক্তার বাদ দেওয়া হচ্ছে রেশন কার্ডের (Ration Card) তালিকা থেকে। যে সমস্ত ব্যক্তিরা আয়কর রিটার্ন, জিএসটি রিটার্ন জমা দেন বা ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক, সেই সব ব্যক্তিদের পরিবারের রেশন কার্ড বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। বীরভূম জেলার খাদ্য ও সরবরাহ দফতর (Food & Supplies Department) ও রেশন ডিলাররা এমন তথ্যই জানাচ্ছে। তবে খাদ্য দফতর সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বীরভূম দিয়ে শুরু হয়েছে, তবে সারা রাজ্যে এই নিয়ম শীঘ্রই চালু হবে।

এবার আয়ের ওপর নির্ভর করে বাতিল হচ্ছে রেশন কার্ড

ইতিমধ্যেই দফতরের ব্লক অফিসারদের কাছে নামের তালিকা পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে যে কার্ডগুলি বাতিল করা হবে, সেগুলির নাম ও নম্বরের পাশে উল্লেখ করা থাকছে যে ওই পরিবারের বার্ষিক আয় অনুমোদিত সীমার বেশি। শোনা যাচ্ছে যে, রেশন দোকানে গেলে এই সমস্ত গ্রাহকেরা জানতে পারছেন, তাঁদের কার্ড ‘ব্লক’ হয়ে গিয়েছে। ‘রেশন ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর বীরভূম জেলা সম্পাদক অলোক ঠাকুর পরামর্শ দিচ্ছেন, যে সব পরিবারের রেশন কার্ড ব্লক করে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা সত্বর দফতরের সাথে যোগাযোগ করুন। 

আরও পড়ুন: ১ সেপ্টেম্বর থেকে সমস্ত সরকারি কাজে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

গত জুন মাসে সরকারি নির্দেশ মেনে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বাদ যাওয়া ভোটারদের নাম রেশন উপভোক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেসময় খাদ্য দফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যে পরিবারের আয় ভালো এবং যাঁদের ভর্তুকি মূল্যে রেশন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই, তাঁদের রেশন কার্ড জমা দেওয়ার অনুরোধ করবে দফতর। কিন্তু এরকম কোনো অনুরোধ আসার আগেই আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের রেশন কার্ড বাতিল করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। 

খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের কিছু জেলা আধিকারিকরা বলছেন, বীরভূমের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৫ শতাংশের কাছে রেশন কার্ড রয়েছে। কিন্তু এগুলি ঠিকমতো যাচাই করলে দেখা যাবে, শহরাঞ্চলে প্রায় ৫০ শতাংশ এবং গ্রামীণ এলাকায় প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রেশন পাওয়ার যোগ্য। সচ্ছল পরিবারের নামের তালিকা দফতরে পৌঁছে যাওয়ার পরেই বাদ দেওয়ায় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, শহরাঞ্চলে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষের কার্ড বাতিল হবে। 

আরও পড়ুন: রেশন কার্ডে তথ্য ভুল থাকলে সরকারি প্রকল্প পেতে হবে সমস্যা, যাচাই করে নিন আজই

জানিয়ে রাখি, আর্থিক অবস্থা অনুসারে তিন ধরনের রেশন কার্ড গ্রাহকদের দেওয়া হয়েছিল, এগুলি হল – প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড (পিএইচএইচ), সুপার প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড (এসপিএইচএইচ) এবং অন্ত্যোদয় অন্নযোজনা (এএওয়াই)। এতে যাঁদের নাম বাদ যায়, তাঁদের জন্য বিগত সরকার রাজ্যের নিজস্ব খাদ্য প্রকল্প, খাদ্যসাথী (Khadya Sathi) চালু করেছিল।

আরও পড়ুনঃ বেসরকারি হাসপাতালে ফ্রি বেড থেকে অ্যাপ-ক্যাব অ্যাম্বুলেন্স, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন উদ্যোগ

কোভিড ১৯ অতিমারির সময় বীরভূম জেলায় রেশন কার্ডের সংখ্যা ছিল ৪৪ লক্ষের বেশি। কিন্তু রেশন ব্যবস্থায় দুর্নীতি রুখতে রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার লিঙ্ক এবং বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশন সহ একাধিক নিয়ম লাগু করার ফলে কার্ড সংখ্যা অনেকটাই কমে। গত জুন মাসের প্রথম দিকে ওই জেলায় মোট কার্ডের সংখ্যা ছিল ৩৬ লক্ষের কিছু বেশি। ১৯ জুলাই সে সংখ্যা আরও কমে এসে দাঁড়ায় ৩৫,৩৪,৫২৯ লক্ষ। এ বার সংখ্যাটা আরও নীচে নামবে বলেই আশা করা হচ্ছে। 

Leave a Comment