সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গত ১৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের (Hydrogen Train) যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে মাত্র দুই দিন গড়াতেই সোশ্যাল মিডিয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনেই পাথর ছুঁড়ছে আমজনতা। তবে এ বিষয়ে পরে ভারতীয় রেল তাদের বিবৃতি জানিয়েছে। নর্দান রেলওয়ে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি একটি পুরনো ফুটেজ এবং সেখানে দেখানো ট্রেনটি হাইড্রোজেন ট্রেনের নয়।
হাইড্রোজেন ট্রেনে পাথর?
আসলে যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্ল্যাটফর্মে একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে রয়েছে যেটিতে বিক্ষোভকারীরা একের পর এক পাথর ছুঁড়ে মারছে। এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নেট নাগরিকটা ক্ষোভ উগড়ে দেন। অনেকের দাবি, হাইড্রোজেন ট্রেনটি মাত্র দু’দিন আগে উদ্বোধন করা হল। তার উপরই পাথর ছুঁড়ছে দুষ্কৃতীরা! অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কিন্তু ভিডিও ভাইরাল হতেই একটি বিবৃতি জারি করেছে ভারতীয় রেল। নর্দান রেল তাদের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে জানিয়েছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি পুরনো এবং ক্লিপটিতে দেখানো ট্রেনটি হাইড্রোজেন ট্রেন নয়।
এমনকি রেলের তরফ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে যে হরিয়ানার একটি রেলস্টেশন থেকেই বিক্ষোভকারীরা পরিবেশবান্ধ হাইড্রোজেন ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ে জানালার কাঁচ ভেঙে দিচ্ছে, এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তবে ভাইরাল ওই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আসলে ওই ট্রেনটি বিহারের পাটলিপুত্র রেলস্টেশনের একটি নীল রঙের WAG-12B বৈদ্যুতিক মালবাহী লোকোমোটিভ ছিল। আর এটি হাইড্রোজেন চালু ট্রেন চালুর আগের ঘটনা। এমনকি হাইড্রোজেন ট্রেনের সঙ্গে ওই গাড়ির ইঞ্জিনের কোনও মিল নেই।
Is Arvind Kejriwal’s father’s money invested in this Hydrogen train? Or Deepak’s father’s?
No Neither the politicians nor the stone pelters paid for it
It is funded by the common man’s hard earned taxes Stop throwing stones at your own property
Vandalism brings up to life…
— Ramesh Tiwari (@rameshofficial0) July 20, 2026
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার না পেলেও চিন্তা নেই! বড় কথা শোনালেন শমীক ভট্টাচার্য
উল্লেখ্য, দেশের প্রথম এই হাইড্রোজেন ট্রেনটি আপাতত হরিয়ানার জিন্দ ও সোনিপতের মধ্যেই চলছে। ২ ঘণ্টায় প্রায় ৮৯ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে এই ট্রেনটি, যার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার এবং গড় গতিবেগ ৭৫ কিলোমিটার। এই রুটে ট্রেনটি ১২টি স্টেশনে থামে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জিন্দ সিটি, পান্ডু পিন্দারা, ললিত খেরা, ভাম্বেভা, ইশাপুর খেরি, বুটানা, খান্দ্রাই, গোহানা, রাবরা, লাঠ, ইত্যাদি। সকাল ৭:৪০ মিনিটে জিন্দ স্টেশন থেকে ছেড়ে সকাল ৯:৪০ মিনিটে সোনিপতে পৌঁছয়, আবার ফিরতি পথে সকাল ১০:৪০ মিনিটে সোনিপত থেকে ছেড়ে দুপুর ১:০০টায় জিন্দ স্টেশনে পৌঁছয়।