সহেলি মিত্র, কলকাতা: প্রাইভেট টিউশনির (Private Tuition) ওপর নির্ভরতা কমাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা দফতর। এমনিতে যত সময় এগোচ্চে শিক্ষা ব্যবস্থায় ততই বদল ঘটছে। এবারেও যার ব্যতিক্রম ঘটল না। শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা বিভাগ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর পাঠ্যক্রম, পাঠ্যসূচি ও পাঠ্যপুস্তক পর্যালোচনা করার জন্য একটি পাঠ্যসূচি-সহ-পাঠ্যক্রম কমিটি গঠন করেছে।
বড় সিদ্ধান্ত নিল স্কুল শিক্ষা দফতর
জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, কমিটি বিদ্যমান স্কুল পাঠ্যক্রম মূল্যায়ন করবে এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০, প্রাথমিক স্তরের জন্য জাতীয় পাঠ্যক্রম কাঠামো (এনসিএফ-এফএস) ২০২২ এবং স্কুল শিক্ষার জন্য জাতীয় পাঠ্যক্রম কাঠামো (এনসিএফ-এসই) ২০২৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কারের সুপারিশ করবে। এই বিষয়ে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেবাশিস চ্যাটার্জী এই কমিটির সভাপতিত্ব করবেন এবং অতিরিক্ত কর্মকর্তা ও স্কুল শিক্ষা বিভাগের পদাধিকারবলে যুগ্ম পরিচালক অরিন্দম ব্যানার্জী সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কীভাবে কাজ করবে কমিটি?
পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক সংশোধনের পাশাপাশি প্যানেলটিকে রাজ্যের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পদ্ধতি এবং বেসরকারি টিউশনের ওপর শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতা পর্যালোচনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধারণাগত শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক মানসিকতার প্রসার ঘটাতে এবং পড়াশোনার চাপ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপের সুপারিশ করবে। এছাড়াও, এটি অনুসন্ধান-ভিত্তিক শিক্ষাদানের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষ-ভিত্তিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করার এবং মুখস্থ বিদ্যা, গাইডবুক ও কোচিং ক্লাসের উপর নির্ভরতা কমানোর উপায়গুলো খতিয়ে দেখবে। অর্থাৎ আগামী দিনে প্রাইভেট টিউশনের যাতে দরকার না পড়ে তার জন্য একদম আটঘাট বেঁধে ময়দানে নামছে সরকার।
আরও পড়ুনঃ সব প্রবীণই কি ন্যূনতম পেনশন পাবেন? নীরবতা ভাঙল সরকার
স্কুল শিক্ষা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ” কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য হলো একটি আধুনিক, শিশু-কেন্দ্রিক পাঠ্যক্রম তৈরি করা, যা জাতীয় নীতিমালার প্রতিফলন ঘটাবে এবং একই সাথে পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষার বাস্তবতাকেও বিবেচনা করবে। কমিটিকে পাঠ্যবইয়ের বাইরে গিয়ে এমন সংস্কারের সুপারিশ করতে বলা হয়েছে, এর ফলে শিক্ষক ও পড়ুয়া উভয়েরই ফলাফল উন্নত করবে।”