মুসলিম হয়েও ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিরাট পদক্ষেপ বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম তাওরের (Ibrahim Traore)। দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর শাসকও তিনিই। এবার সেই ইব্রাহিম উগ্রবাদী ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে দিলেন। আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, তাওরে ইসলামদের উগ্রতার বিপক্ষে। মূলত সে কারণেই এবার উগ্রবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলেন তিনি। বুরকিনা ফাসোর শাসক বলেছেন, যাঁরাই উগ্রবাদ প্রচার করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিতর্কিত ধর্মীয় আইনের পক্ষে তাওরে

উগ্রবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেও বিতর্কিত ধর্মীয় আইনের পক্ষে প্রেসিডেন্ট তাওরে। তিনি বলেন, এই বিশেষ আইনের মাধ্যমে বুরকিনা ফাসোর ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা গিয়েছে। যাঁরা ইসলামের শান্তির বার্তা প্রচার করবেন তিনি শুধুমাত্র তাঁদের পাশেই দাঁড়াবেন। তবে যাঁরা দেশটিতে উগ্রবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার।

এদিন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম অভিযোগ করেন, বেশ কিছু বিদেশী শক্তি ধর্মকে কাজে লাগিয়ে বুরকিনা ফাসোয় অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। দেশটির মানুষের মধ্যেও বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করছে। এই ধরনের প্রচেষ্টা একেবারেই মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম। এক কথায়, ইসলামী শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর তিনি।

বলাই বাহুল্য, সাম্প্রতিক সময়ে বুরকিনা ফাসোর সামরিক সরকার এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার নিয়েছে। যার সূত্রপাত হয়েছিল সুন্নি ইমাম মোহাম্মদ ইশহাক কিন্দোকে আটক করার পর থেকেই। এই ইমাম ধর্মীয় আইনের তীব্র বিরোধিতা এবং সমালোচনা করেছিলেন। যার কারণে তাঁকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর থেকেই ওই ইমামের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে মুসলিমরা।

অবশ্যই পড়ুন: PoK নিয়ে রাজনাথের মন্তব্যের পর আতঙ্ক! বিশ্বের কাছে ভারতের উপর চাপ সৃষ্টির দাবি পাকিস্তানের

সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইমাম কিন্দোর পাশাপাশি তাঁর 100 জনের কাছাকাছি সমর্থককে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে সে দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। তাতে মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। যদিও শোনা যাচ্ছে, সেনাবাহিনীরা ধৃতদের নাগরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

Leave a Comment