প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বড় জয় ঝাড়খণ্ড পুলিশের (Jharkhand Police), দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে ঝাড়খণ্ডে গ্রেপ্তার হলেন মাওবাদীদের প্রবীণ নেতা মিসির বেসরা (Misir Besra Arrested)। জানা গিয়েছিল, কয়েক বছর ধরে পুলিশ এই মিসিরকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত বিশেষ সূত্রের মাধ্যমে মঙ্গলবার ধানবাদের বারওয়াড্ডা থানার অন্তর্গত মানিয়াডিহ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তিনি শুধু একা নন, আরও দুই মাওবাদীকেও আটক করা হয়েছে বলে খবর।
পুলিশের জালে ধরা পড়লেন মাওবাদী শীর্ষ নেতা
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, সিপিআই মাওবাদীদের সংগঠনের শীর্ষস্তরের নেতা ও তাদের পলিটব্যুরোর শেষ জীবিত সদস্য ছিলেন মিসির বেসরা। বাকি সদস্যরা হয় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন, নয়ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন। কিন্তু তাঁকে ধরতে গিয়ে রীতিমত নাকানি চুবানি খেতে হয়েছিল পুলিশদের। পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে সেই সময় পুলিশ হুলিয়া জারি করে জানিয়েছিল যে, ৬৬ বছর বয়সি ওই নেতার মাথার দাম দেওয়া হবে এক কোটি টাকা। মিসির বেসরা আত্মগোপনের জন্য ভাস্কর ও সাগর নামে একাধিক ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। অবশেষে বিশেষ সূত্রের মাধ্যমে প্রায় দু’ দশক পরে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তিনি।
গ্রেফতার হন আরও দুই মাওবাদী নেতা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল, মঙ্গলবার, মিসির বেসরা কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে পারশনাথ পাহাড়ে তলার জঙ্গলে লুকিয়ে ছিলেন। এরপর সিআরপিএফ, গিরিডি ও ধানবাদ পুলিশ একসঙ্গে তল্লাশি শুরু করে। তখনই ধানবাদ-গিরিডির সীমানায় টুন্ডি-মান্ডিয়ার জঙ্গল থেকে পালাতে গিয়ে রাত ৯টা নাগাদ ধরা পড়েন মিসির ও তাঁর দুই সঙ্গী। মিসিরের আদি বাড়ি ছিল ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার হারলাডিহিতে। ২০০৭ সালে ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। পরে ২০০৯ সালে বিহারের লাখিসরাই আদালতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টে হাজির করানোর সময় পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যান। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁকে ধরতে একাধিক রাজ্যে অভিযান চালানো হচ্ছিল। তাঁর সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও দুই মাওবাদী নেতাকে।
আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রী স্কলারশিপ প্রকল্পে মিলবে ১০ হাজার টাকার বৃত্তি, কীভাবে ও কোথায় আবেদন?
অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডে মোট ১৬ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। যাঁদের মধ্যে ছয়জনের মাথার দাম ছিল ৩৯ লক্ষ টাকা। এঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন সন্তোষ মাহাত ওরফে বাসুদেব দা ওরফে দিলীপ। এবং তাঁর মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা। ২০২৬ সালে ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী বিরোধী অভিযানে এখনও পর্যন্ত ৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আত্মসমর্পণ করেছেন ৪৫ জন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ২২ জন মাওবাদী। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশকে মাওবাদী-মুক্ত করার জন্য যে সংকল্প নিয়েছিল অবশেষে সেটি বাস্তবায়িত হতে চলেছে।