৫ টাকা দিলেই ২৪ ঘন্টা মিলবে প্যাড, মহিলাদের জন্য বাংলায় চালু হল স্যানিটারি ATM

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মহিলাদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে রাজ্যে প্রথমবার চালু হল স্যানিটারি এটিএম (Sanitary Napkin ATM)। এতদিন যে এটিএম মেশিন থেকে আমরা টাকা বের হতে দেখেছি এখন সেই রকম মেশিন থেকেই এবার বেরোতে চলেছে প্যাড (Sanitary Napkin)। এমনই এক আশ্চর্যজনক নজির গড়ে তুলল পূর্ব মেদিনীপুরের (Purba Medinipur) ময়না। ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে এই খবর। অন্যদিকে প্রত্যন্ত গ্রামে রাস্তার ধারে নতুন কেউ এরকম এটিএম দেখেই অনেকেই হকচকিয়ে যাচ্ছেন এবং অনেকে আবার দাঁড়িয়ে দেখছেন। তবে এই উদ্যোগে অত্যন্ত খুশি গ্রামের মহিলারা।

রাজ্যে প্রথম প্যাড এটিএম ময়নায়

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার দোনাচক স্বামী বিবেকানন্দ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে রামচক গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত দোনাচকে তৈরি হয়েছে এই স্যানিটারি ন্যাপকিন পরিষেবা কেন্দ্র বা প্যাড এটিএম। পাঁচ টাকার বিনিময়ে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিনে ২৪ ঘণ্টাই পাওয়া যায় স্যানিটারি প্যাড। এছাড়াও ঋতুকালে প্যাড পরিবর্তনের জন্য রয়েছে আলাদা কক্ষও। পাশে একটি বাক্সেও মজুত রয়েছে প্যাড। যদি মেশিন কাজ না করে তাহলে মহিলারা সেখান থেকেও প্যাড সংগ্রহ করতে পারেন। ন্যাপকিন এটিএমের বাইরে রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। এই নয়া উদ্যোগে ব্যাপক খুশি স্থানীয় মহিলারা।

কী বলছেন সংস্থার সম্পাদক?

শুরুটা একদমই মসৃণ ছিল না, এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়েই প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার স্যানিটারি ন্যাপকিন বিনামূল্যে বিলি করতেন। পরে অসংখ্য স্বেচ্ছসেবীসংস্থা এই পদক্ষেপে এগিয়ে আসে। তারপরই বিভিন্ন আলোচনা করার পর স্যানিটারি প্যাড এটিএম চালুর ভাবনা চিন্তা করা হয়। সম্পাদক শুভদীপ ভৌমিক জানিয়েছেন, “২০১৩ সাল থেকে এলাকায় সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। আধুনিক যুগে এসেও মহিলারা ও ছাত্রীরা ঋতুকালীন সময়ে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে অতটা সচেতন হয়ে ওঠেনি। এমনকী গ্রামের অনেক মহিলারা স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারও করেন না। যার ফলে অনেকেই জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই প্যাড এটিএম বানানো হয়েছে।”

আরও পড়ুন: মাদ্রাসায় বন্দে মাতরম গাইতেই হবে? বিরাট নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

এই পরিষেবা গোটা গ্রামে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রথমে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকরা, স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা ও আশাকর্মীদের নিয়েই বিভিন্ন গ্রামে মহিলা ও ছাত্রীদের স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং বিনামূল্যে ন্যাপকিন বিতরণ সচেতনতা শিবির শুরু করেছিল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা। এরপর ময়না ও পিংলার বিভিন্ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিয়ে একইভাবে ন্যাপকিন ব্যবহারের সচেতনতা শিবির ও বিনামূল্যে ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়েছিল। দোনাচক, রামচক, মগরা, পরমানন্দপুর, সুদামপুর গ্রামে প্রচারে ভালোই সাড়া মেলে।

Leave a Comment