বন্ধ বিদেশী অনুদান, কী এই FCRA সংশোধনী বিল? জানুন সবটা

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বৈদেশিক ফান্ড দিয়ে চলত দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সেই প্রবণতায় রাশ টানতে এবার লোকসভায় পেশ করা হচ্ছে FCRA সংশোধনী বিল ২০২৬ (FCRA Bill)। বিশেষ করে বিভিন্ন এনজিও, ট্রাস্ট, কোম্পানি কিংবা ব্যক্তি দ্বারা প্রাপ্ত বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিলের। যদিও এই প্রস্তাব বৈদেশিক অনুদান আইন ২০১০ এর উপর ভিত্তি করেই বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে প্রশ্ন উঠছে, কী এই FCRA সংশোধনী বিল, যা নিয়ে দেশের রাজনীতি উত্তপ্ত? বিস্তারিত জানাবো এই প্রতিবেদনে।

FCRA সংশোধনী বিল কী?

আসলে বৈদেশিক অনুদান সংশোধনী বিল এর মূল উদ্দেশ্য হল বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বাড়ানো, বৈদেশিক তহবিলের অপব্যবহার এবং আত্মসাৎ প্রতিরোধ করা, বিদেশী অর্থায়নের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষা করা এবং বিদেশি অর্থায়নে দেশের অর্জিত সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য সুস্পষ্ট পরিকাঠামো তৈরি করা। গত ২৫ মার্চ এই বিলটি লোকসভায় তুলে ধরা হয়েছিল, এবং বর্তমানে তা সংসদে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।

কেন বিতর্ক FCRA সংশোধনী বিল নিয়ে?

আসলে এই বিলের মাধ্যমে সরকার বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে তৈরি হওয়া সম্পদের উপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চাইছে। এখানেই আপত্তর সুর তুলছে বিরোধীরা। কারণ, বিলে উল্লেখ করা রয়েছে, বিদেশি অর্থের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ প্রাথমিকভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে এবং সংস্থাটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যদি নিবন্ধন পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তা বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।

এমনকি সবথেকে বড় ব্যাপার, বৈদেশিক অনুদান আইনের কাঠামোর আওতায় প্রায় ১৬,০০০ সমিতি নিবন্ধিত রয়েছে। আর তারা প্রতিবছর আনুমানিক ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি বৈদেশিক অনুদান পেয়ে থাকে। এগুলির রাশ টানায় এখন সরকারের মূল উদ্দেশ্য। এমনকি প্রস্তাবিত এই আইনে অন্তত তিনটি বিধান বিতর্কিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার মধ্যে প্রথমটি হল ধারা ১৪বি, যেখানে বলা হচ্ছে কোনও সংস্থা যদি নবায়নের জন্য আবেদন না করে এবং সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তাহলে সেই সার্টিফিকেটটি বাতিল বলেই গণ্য করা হবে।

আরও পড়ুন: লটারি লাগল রেল কর্মীদের, ২৫% ভাতা বাড়াল সরকার

দ্বিতীয়টি হল ধারা ১৬ক, যেখানে বলা হচ্ছে কোনও সনদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সংস্থা দ্বারা প্রাপ্ত বিদেশি অনুদান এবং তা থেকে তৈরি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। আর তৃতীয়ত রয়েছে ধারা ১৬বি, যেখানে বলা হচ্ছে সংশোধনী কার্যকর হওয়ার আগে পূর্ববর্তী আইনের আওতায় ইতিমধ্যেই অর্জিত সম্পদের ক্ষেত্রে নতুন কাঠামো প্রয়োগ করা হবে। এই সমস্ত বিধানগুলির বিরুদ্ধেই আপত্তি জানাচ্ছেন বিরোধীরা।

Leave a Comment