ধর্মান্তর থেকে জমি কেনাবেচায় বিধিনিষেধ আরোপ, নতুন আইন আনছে রাজ্য সরকার

অনন্যা সরকার, বাঁকুড়া: পশ্চিমাঞ্চল ও জঙ্গলমহলের উন্নয়নে গতি আনতে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এবার তার রোডম্যাপ নিয়ে হাজির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ-এ আয়োজিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, পূর্বতন সরকারের আমলে অবহেলায় পড়ে থাকা এই পশ্চিমাঞ্চলের পুনরুজ্জীবনের জন্য চলতি অর্থবর্ষের বাকি ৮ মাসে ব্যয় করার ১,৬১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১,৬০০ কোটি খরচ হবে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজে। এর পাশাপাশি বেআইনিভাবে ধর্মান্তরিত করার বিরুদ্ধেও এদিন সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোন কোন বিষয়ে আজ বক্তব্য রাখলেন তিনি, আসুন জেনে নেওয়া যাক। 

বেআইনিভাবে ধর্মান্তরিত করা নিয়ে কড়া মুখ্যমন্ত্রী

মঙ্গলবারের বৈঠকে বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের বিধায়ক, সাংসদ, ক্যাবিনেট মন্ত্রী, জেলাশাসক ও প্রায় ৭৫ জন বিডিও উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে তিনি জঙ্গলমহলে বিদেশি অর্থ সাহায্য দিয়ে গরিব মানুষদের বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে ধর্মান্তর এবং মৌলবাদ ছড়ানোর বিরোধিতা করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।  তিনি জানান খুব শীঘ্রই সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) নিয়ে আসতে চলেছে, যা ‘এক দেশ, এক আইন, এক মুখ্যমন্ত্রী’- এই নীতিকে স্বীকৃতি দেবে। তার পরেই জোর করে ধর্মান্তর রুখতে কঠোর আইন আনা হবে এবং জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও সরকারি বিধি-নিষেধ আরও কড়া হবে। 

আরও পড়ুন: এই ৪ দেশের মহিলা বন্দিদের উপর চলে ভয়ংকর অত্যাচার, জানলে শিউরে উঠবেন

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ধর্ম প্রতিষ্ঠানের নাম করে মৌলবাদীরা অনেক অবৈধ জায়গা তৈরি করে রেখেছে, দেশের মধ্যে বিদেশ থেকে টাকা এনে গোলমাল করছে। এজিনিস বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য সীমান্তের বিরাট বড় এলাকা কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কথা ছিল, তবে দীর্ঘকাল জমি জটের কারণে তা আটকে ছিল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে অনেকটাই জমি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এপ্রসঙ্গে বলেন, সীমান্তের জমি দিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওবিসির (OBC) অবৈধ তালিকাও বাতিল হয়েছে, ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা বন্ধ করেছে সরকার। তার পাশাপাশি গো মাতার সম্মান রক্ষা, মহরমের শোভাযাত্রায় তলোয়ারে নিষেধাজ্ঞা ও ইউসিসি চালু হওয়ার বিষয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। 

আরও পড়ুন: রাজ্যের প্রকৃত গৃহহীনরা কবে পাবেন পশ্চিমবঙ্গ আবাসের টাকা? দেখে নিন নিজেই

এসআইআর-এ নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাদের নাম বাদ গেছে তাদের মধ্যে শুধু বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরনার্থীরাই সিএএ (CAA)-তে আবেদন করতে পারবেন। যতক্ষণ না তাদের আবেদনের নিষ্পত্তি হচ্ছে ততক্ষণ তারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, রেশন বা বার্ধক্য ভাতার মতো সরকারি প্রকল্পগুলি সুবিধা পাবেন। ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা ব্যক্তিরাও যতদিন না সুরাহা পাচ্ছেন ততদিন তাদের কোনও অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে না সরকার।

Leave a Comment