প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে (Netaji Subhash Chandra Bose) নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করায় বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজকে (Ananta Maharaj) নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দলের অন্দরেই। গতকাল, নেতাজী অবমাননায় কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় গ্রেফতারির নির্দেশও দিয়েছেন। তাই মহারাজের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে ভেসে আসছে নানা মত। এদিকে তাঁকে নিয়ে মানুষের আগ্রহও বেড়েছে অনেকটাই। তাঁর রাজনৈতিক জীবন, শিক্ষাগত যোগ্যতা থেকে শুরু করে আয়-সম্পত্তি সবই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা মহারাজের
কোচবিহার শহরের অদূরে বড়গিলা এলাকায় বিশাল ‘রাজপ্রাসাদ’ বানিয়ে সেখানকার রাজা হয়েছিলেন নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। তাঁকে নিয়ে তৈরি হয়েছে একের পর এক বিতর্ক। সরকারি নথি অনুযায়ী অনন্ত মহারাজ ১৯৭৫ সালে সরুপেটা ইংলিশ হাই স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করেছিলেন। এরপর তিনি আর পড়াশোনা করেননি। রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রথমে গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন (GCPA) এবং গ্রেটার কোচবিহার ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন এবং ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।
সম্পত্তির পরিমাণ কত?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের মোট সম্পদের পরিমাণ ১.৯৬ কোটি। অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৭ লক্ষেরও বেশি। এবং তাঁর স্ত্রী সাবিত্রী রায়ের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১০ হাজার টাকা। বরাবরই অনন্ত মহারাজের আসল পরিচয় নিয়ে বিতর্ক রয়ে গিয়েছে। সরকারি নথি অনুসারে, ভারতভুক্তির সময় কোচবিহারের মহারাজা ছিলেন জগদ্দীপেন্দ্রনারায়ণ ভূপবাহাদুর। এরপর রাজবংশের প্রথা মেনে শেষবার রাজা হিসাবে রাজ্যাভিষেক হয়েছিল বীরাজেন্দ্রনারায়ণের। কিন্তু সরকারি তালিকায় কোথাও নগেন্দ্রর নামগন্ধও নেই। তাহলে কোন যুক্তিতে তিনি নিজেকে রাজা বলছেন সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আরও পড়ুন: ৫০ ঘণ্টার ট্রেনিং বাধ্যতামূলক, শিক্ষকদের জন্য নয়া বিজ্ঞপ্তি রাজ্য সরকারের
নগেন্দ্রর নিজেকে রাজা দাবি করার বিরোধিতা করে এবং আইনি পদক্ষেপের আর্জি জানিয়ে একাধিক সংগঠন থেকে ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অসমের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এমতাবস্থায় নেতাজিকে নিয়ে লাগাতার কটূক্তি করায় তাঁর মহারাজের আসল পরিচয় সামনে আনার দাবি ক্রমশ জোরালো হতে শুরু করেছে গোটা রাজ্যে।