সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ কেএমসি এলাকায় বসবাসকারী পেনশনররা আর কবে বকেয়া ডিএ’র (Dearness Allowance) টাকা পাবেন? এই নিয়ে ফের একবার উঠল প্রশ্ন। বিষয়টা যে ঠিক হচ্ছে না, সেটাও জানালেন সরকারি কর্মীরা। অনেকেই বকেয়া ডিএ পেয়েছেন তো আবার অনেকেই টাকা পাননি। বিশেষ করে কেএমসি এলাকায় বসবাসকারী পেনশন প্রাপকরা (Pensioner) একটা টাকাও বকেয়া ডিএ-র পাননি বলে অভিযোগ। এখানে কার দোষ, সরকার না ব্যাঙ্কের? উঠছে প্রশ্ন। এদিকে এই নিয়ে আবারও একবার জোরালো প্রশ্ন করতে শোনা গেল ডিএ মামলাকারী মলয় মুখোপাধ্যায়কে।
নিজের ফেসবুক পোস্টে নতুন করে সরকারের (Government of West Bengal) বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন মলয় মুখোপাধ্যায় (Malay Mukherjee)। তিনি লিখেছেন, ‘সাত দিনেরও বেশি সময় অতিবাহিত, অর্থ দফতর কেএমসি এলাকার ব্যাঙ্কগুলোতে ডিএ মামলার বকেয়া ক্যালকুলেশন করে পাঠিয়ে দিলেও ব্যাঙ্কগুলো তা আজও তা পেনশনারদের অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট করে উঠতে পারলো না। এটা ঠিক হচ্ছে না।’ সরকার কি এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেবে? উত্তর জানা নেই কারোর।
কী বলছেন সাধারণ মানুষ?
এদিকে এই বকেয়া ডিএ বিষয়ক অনেকে অনেক কথা বলছেন সামাজিক মাধ্যমে। একজন লিখেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী, বকেয়া ডিএ (DA) গণনার পদ্ধতি ভিন্ন বা খেয়াল খুশিমতো হতে পারে না। এই নির্দেশিকাগুলো সবার সামনে প্রকাশ করা উচিত, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গণনার পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে পারেন। পেনশনভোগীদের অ্যাকাউন্টে সঠিক (অনুমোদিত) পরিমাণ বকেয়া জমা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রয়োজনীয় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।’
অন্য আরেকজন লিখেছেন, বোধ হয়, কিছু ভুল হচ্ছে। আগেও ট্রেজারীগুলোতে অর্থ দফতর হিসাব করে দিয়েছিল। সরকারের অধীনে বলে ওরা সরকার যা বলেছে, তাই পেমেন্ট করেছে। কিন্ত, ব্যাঙ্কগুলো রাজ্য সরকারের অধীনে নয়। রাজ্য সরকারকে জবাবদিহি করার দায়ও ওদের নেই। ওদের একমাত্র জবাবদিহি করতে হয় এজির কাছে। কাজেই, ওরা আবার স্বাধীন ভাবে হিসাব করে তবে পেমেন্ট করবে বলে মনে হওয়া স্বাভাবিক। এমনও হতে পারে, ওরা সুপ্রিম কোর্টের আদেশের সাথে টাকার পরিমাণ মিলিয়ে দেখছে। PSCর ক্ষেত্রে এমন একটা ব্যাপার হয়েছিল। সেটা ব্যক্তিগত ভাবে জানি। PSC কোনও সরকারের অধীন সংস্থা নয়।’ অপর একজন লিখেছেন, পদ্ধতি অনুসারে, রাজ্য স্তরের সমন্বয় কমিটির বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কারদের সঙ্গে আরবিআই-এর সহযোগিতায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করা উচিত ছিল। অনুগ্রহ করে বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিব এবং অর্থ সচিবের নজরে আনা হোক।