বিবাহবিচ্ছেদের পর সৎ বাবা-ই সন্তানের পূর্ণ অভিভাবক, বড় রায় কলকাতা হাইকোর্টের

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মা-বাবার বিবাহবিচ্ছেদের পর এবার সৎ বাবাও সন্তানের পূর্ণ অভিভাবক হতে পারেন অর্থাৎ সন্তানের সার্টিফিকেটে সৎ বাবার নাম ব্যবহার করা যাবে। ঐতিহাসিক রায় কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)। আসলে এতদিন যাবৎ বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হলে সন্তানকে জন্মদাতা পিতার পরিচয় বহন করে বেড়াতে হত। তবে জন্ম শংসাপত্রের সেই আইনি জটিলতা এবার ভেঙে দিল রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত। পূর্ব বর্ধমানের এক মামলায় এই রায় দিয়েছে হাইকোর্ট

সৎ বাবার অভিভাবক হওয়া নিয়ে বড় রায় হাইকোর্টের

ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের। ২০১২ সালে শুভঙ্কর কর্মকারের সঙ্গে এক মহিলা সাতপাকে বাঁধা পড়েন, এবং তার দু’বছর পর তাঁদের একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু পারিবারিক বিবাদের কারণে ২০২১ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয় দম্পতির। এমনকি ২০২২ সালে ওই মহিলা পুনরায় রাজেশ ঘোষ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। নতুন সংসারে সৎ বাবা ওই সন্তানের দায়িত্ব নিলেও শংসাপত্র নিয়ে তৈরি হয় আইনি জটিলতা। কারণ, পুরসভার ইস্যু করা বার্থ সার্টিফিকেটে জন্মদাতা পিতার নাম উল্লেখ ছিল, এবং সেটি পরিবর্তন হবে না বলেই জানানো হয়।

পুরসভায় যুক্তি ছিল, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কোনও আইন না থাকার জেরে নাম বদল করা অসম্ভব। তবে সেই ইস্যুকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই মহিলা। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। এমনকি শুনানি চলাকালীন ওই শিশুর জন্মদাতা পিতা আদালতে হাজির হয়ে জানান যে নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। সমস্ত দিক বিবেচনা করে বিচারপতি নির্দেশ দেন, পুরসভাকে অবিলম্বে ওই শিশুর নতুন জন্ম সার্টিফিকেট ইস্যু করতে হবে। এমনকি এই ধরনের সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত বিষয়ে অতিরিক্ত কঠোর না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আরও পড়ুন: মুসলিম ছাত্রীদের ফ্রি টিউশনের ঘোষণা তামিলনাড়ু সরকারের, বছরে মিলবে ২০০০ টাকাও

পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের আকেলা ললিতা মামলার রায় এবং ১৯৫৯ সালের জন্ম-মৃত্যু আইনের ১৫ নম্বর ধারা উল্লেখ করে বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী নির্দেশ দেন, “সমাজ এগিয়েছে। রেজিস্ট্রারের ক্ষেত্রে জন্মদাতা বাবার নাম ধরে রাখা এখন আর বাধ্যতামূলক বিষয় নয়।” এমনকি আদালত আরও জানিয়েছে, নাবালক শিশুটি ভবিষ্যতে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চাইবে। তাই সেক্ষেত্রে নতুন শংসাপত্র চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।

Leave a Comment