প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: উপনির্বাচনের বাদ্যি বাজতে না বাজতেই রাজ্য জুড়ে প্রার্থী তালিকা নিয়ে রীতিমত শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এদিকে নন্দীগ্রামে (Nandigram) ভোট যাতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করতে গতকাল, মঙ্গলবার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। কিন্তু অবাক করা বিষয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না তৃণমূল কংগ্রেসের (All India Trinamool Congress) তরফে কেউই। আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে তবে কি নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে প্রার্থী (TMC Nandigram) দেবে না তৃণমূল?
সর্বদলীয় বৈঠক জেলা শাসকের
সম্প্রতি, নির্বাচন কমিশন, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর এই দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ঘোষণা করেছে। ২০২৬ এর বিধানসভা ভোটে দুটি করে কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ও হুমায়ুন কবীর। দুজনেই দুটি করে কেন্দ্রেই জয়লাভ করেন। কিন্তু সংবিধানের নিয়ম অনুসারে একটি করে কেন্দ্র ছেড়ে দিতে হয় জয়ী পক্ষকে। এখন যেহেতু শুভেন্দু এবং হুমায়ুন কবীর যথাক্রমে নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর এই দুই কেন্দ্র ছেড়ে দিয়েছে, তাই নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে হবে উপনির্বাচন। এদিকে প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে নির্ধারিত ভোটপ্রক্রিয়া যাতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয় সেই কারণে গতকাল মঙ্গলবার নিমতৌড়িতে জেলাশাসকের কার্যালয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। আর সেখানেই অস্তিত্ব দেখা গেল না তৃণমূলের।
আলোচনায় দেখা গেল না তৃণমূলের প্রতিনিধিদের
জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমারের ডাকা বৈঠকে প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও তৃণমূলের কোনও প্রতিনিধি না আসায় জেলার রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে আসন্ন উপনির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কি আদৌ প্রার্থী দিতে পারবে তৃণমূল কংগ্রেস? নাকি এখানেও মমতা ও ঋতব্রত তৃণমূলের মধ্যে লড়াই চলবে। কারণ রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকেই প্রাক্তন শাসকদল ভাঙনে জর্জরিত। যদিও তৃণমূলকে বাদ দিয়েই হওয়া এই বৈঠকে বাকি দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিয়মাবলি ও নির্দেশিকা ঘোষণা করেছিলেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার।
আরও পড়ুন: মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেনে মহাধামাকা! মায়ের চোখ আঁকতে পারেন নরেন্দ্র মোদী
অন্যদিকে উপনির্বাচন ঘোষণা হতেই ব্যস্ত বিজেপি নেতৃত্ব। রেয়াপাড়ার বিধায়ক কার্যালয়ে দলীয় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছিলেন। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ও পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী, রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল-সহ নন্দীগ্রামের স্থানীয় নেতৃত্বরা। এখন দেখার উপ নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের তরফে কী প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।