১৫ দিন বাংলার স্কুলগুলির জন্য নয়া নির্দেশ শিক্ষা মিশনের

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হতেই প্রশাসনিক থেকে শুরু করে শিক্ষাখাত, একাধিক জায়গায় বদল এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে পালিত হয়েছে হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি। তবে এবার পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশনের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, চলতি ১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের প্রত্যেকটি স্কুলে (School) পালিত হবে “স্বচ্ছতা পক্ষ ২০২৬”, যার আওতায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সহ একাধিক কর্মসূচি পালন করতে হবে।

স্কুলগুলির জন্য নয়া নির্দেশ শিক্ষা মিশনের

চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই রাজ্যের প্রত্যেকটি স্কুলে চালানো হচ্ছে একাধিক কর্মসূচি। এবার সমগ্র শিক্ষা মিশনের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, রাজ্যের প্রত্যেকটি স্কুলের শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত “স্বচ্ছতা পক্ষ ২০২৬” মিশন পালন করতে হবে। এর আওতায় গাছ লাগানো থেকে শুরু করে শপথ গ্রহণ, হাত ধোঁয়া, রচনা এবং বক্তৃতার মতো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। পাশাপাশি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ই-বর্জ্য সচেতনতা ও সংগ্রহের বিশেষ অভিযান।

এছাড়া শিক্ষা মিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিদিনের কাজ বিকেল পাঁচটার মধ্যেই ছবি এবং ভিডিও আকারে পোর্টালে আপলোড করতে হবে। তবে শিক্ষা মিশনের এই বিজ্ঞপ্তি সামনে আসতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন রাজ্যের শিক্ষকরা। কারণ, পরপর একাধিক নির্দেশিকার জেরে সাধারণ পঠন-পাঠন ব্যাহত হচ্ছে বলেই দাবি। প্রতিনিয়ত স্কুলে এমন কর্মসূচির কারণে সিলেবাস শেষ করা শিক্ষকদের পক্ষে চাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেই দাবি তুলেছেন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল।

আরও পড়ুন: বকেয়া মিটিয়েও পাননি ন্যায়বিচার, নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করলেন বিজয় মালিয়া

তাঁর কথায়, “চলতি শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই কত কিছু পালন করতে হচ্ছে তার কোনও হিসাব নেই। এতকিছু পালন করতে করতে স্কুলগুলির নাভিশ্বাস অবস্থা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর কারণে সাধারণ পঠন-পাঠনে প্রভাব পড়ছে। সরকারের এই বিষয়ে একটু ভাবা উচিত। সবকিছু চাপিয়ে দিলে হয় না। বছরের শুরু থেকেই একের পর এক সচেতনতামূলক কর্মসূচি, সমীক্ষা এবং ডেটা আপলোডের মতো প্রশাসনিক চাপ সামলাতে গিয়ে শিক্ষকরা ক্লাসটুকু নেওয়ার সময় পাচ্ছেন না।”

Leave a Comment