আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: FASTag ব্যবহারকারীদের জন্য এবার অত্যন্ত কার্যকরী একটি নতুন সুবিধা নিয়ে এল OneTag। এতদিন FASTag-এর সঙ্গে যুক্ত ব্যাঙ্ক পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে পুরনো FASTag অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে হত। তারপর নতুন ব্যাঙ্কে আবার রেজিস্ট্রেশন করে নতুন ফিজিক্যাল FASTag স্টিকার নিতে হত। নিঃসন্দেহে এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে এবার সেই নিয়মে আসছে অভাবনীয় বদল। মোবাইল সিম পোর্ট করার মতোই ভীষণ সহজে একটি FASTag অন্য ব্যাঙ্কে পোর্ট করা যাবে। শুক্রবার মুম্বইয়ে গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্ট ২০২৬ (Global Fintech Fest 2026)-এর অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী এই নতুন পরিষেবা চালু করেন। ফলে ব্যাঙ্ক বদলালেও গাড়ির উইন্ডশিল্ডে লাগানো FASTag স্টিকারটি আর পরিবর্তন করতে হবে না।
OneTag-এ ব্যাঙ্ক বদলাবেন কীভাবে?
ব্যাংক বদলানোর প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হলো।
১. প্রথমে Rajmargyatra অ্যাপ ডাউনলোড করে লগ-ইন করতে হবে।
২. এরপর OneTag বিভাগে গিয়ে নিজের Eligibility অর্থাৎ যোগ্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় Security Verification শেষ করতে হবে।
৩. যাচাই সফল হলে নিজের সম্মতি বা Consent দিতে হবে।
৪. এরপর ওখানে দেওয়া তালিকা থেকে আপনি যে নতুন ব্যাঙ্কের সঙ্গে FASTag যুক্ত করতে চান, সেটি বেছে নিতে হবে।
৫. নতুন ব্যাঙ্ক বেছে নেওয়ার পর পুরনো ব্যাঙ্কের Refund Settlement প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
৬. পোর্টেবিলিটির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে FASTag-টি নতুন ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে। অর্থাৎ পুরো কাজ শেষ হলেও গাড়িতে আর নতুন স্টিকার লাগাতে হবে না।
টোল প্লাজায় কীভাবে FASTag-এর টাকা কাটে?
OneTag এলেও টোল প্লাজায় কিন্তু FASTag ব্যবহারের নিয়ম বদলাবে না। গাড়ি টোল লেনে পৌঁছলে সেখানকার কালেকশন সিস্টেম উইন্ডশিল্ডে লাগানো FASTag স্ক্যান করে। এরপর FASTag যে ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত, সেই ব্যাঙ্কের কাছে ট্যাগের প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়। ব্যাঙ্ক NETC-এর মাধ্যমে ট্যাগে উল্লিখিত তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে। এরপর গাড়ির ক্লাস অনুযায়ী কত টোল দিতে হবে, সেই তথ্য ব্যাঙ্কের কাছে পাঠানো হয়। নির্ধারিত টাকা আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াটি শুরু হয় এবং একইসঙ্গে পেমেন্টের তথ্য NETC-কেও জানানো হয়। NETC সেই তথ্য টোল প্লাজার সিস্টেমে পাঠালে লেনদেন সম্পূর্ণ হয়। শুনতে বেশ জটিল মনে হলেও, পুরো প্রক্রিয়াটি কিন্তু মাত্র ১ থেকে ৫ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। তাই টোল দেওয়ার জন্য গাড়ি থামিয়ে নতুন কিছু করার প্রয়োজন নেই।
আরও পড়ুন: শিক্ষক, কর্মীদের ছুটি মঞ্জুরের আগে নিতে হবে NOC, বিজ্ঞপ্তি WBCHSE-র
OneTag চালু হলে বারবার নতুন FASTag তৈরি, সেটি ডিসপ্যাচ করা বা পুরনো ট্যাগের বদলে নতুন ট্যাগ ইস্যু করার প্রয়োজন কমবে। এর ফলে একদিকে যেমন প্লাস্টিকের ব্যবহার কমবে, তেমনই নতুন FASTag তৈরি করতে যে খরচ হয় সেটাও আর হবে না। FASTag-এর পিছনে থাকা RFID প্রযুক্তি রেডিয়ো তরঙ্গের মাধ্যমে স্টিকারে থাকা চিপের তথ্য পড়ে। এর সাহায্যেই গাড়ি না থামিয়ে টোল সংগ্রহ করা যায়। অন্যদিকে NPCI-এর তৈরি ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক্স টোল কালেকশন বা NETC হল একটি ইন্টারঅপারেবল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা দেশের টোল প্লাজা, ব্যাঙ্ক এবং গাড়ির মালিকদের এক সুতোয় বেঁধে রাখে। ফলে নতুন ব্যবস্থায় বদল এলেও, টোল দেওয়ার পদ্ধতিতে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না।