সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দু মৃত্যু। রহস্যমৃত্যু হল সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির। গতকাল সন্ধ্যায় বরিশালের প্যারারা রোডে সমকালের কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ৫৭ বছর বয়সী ওই সাংবাদিক ২০২৩ সাল পর্যন্ত সমকালের ব্যুরোপ্রধান ছিলেন। তাঁর পরিবারে স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাংবাদিক মহলে। তবে পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
বাংলাদেশে সাংবাদিকের রহস্যমৃত্যু
সাম্প্রতিক সময়ে ওপর বাংলায় হিন্দুদের উপর নির্যাতনের ঘটনা মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি এক হিন্দু শিক্ষক পরিবারের ৪ জনেরই রহস্যমৃত্যু হয়, যে ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। তবে এরই মধ্যে গতকাল গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। এমনকি ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে বলেও খবর। সেখানে একটি চিরকুট তিনি তাঁর শারীরিক অসুস্থতা ও রোগ যন্ত্রণা সহ্য করতে না পারার কথা লিখে তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় বলেই দাবি করেছেন। তবে পুলিশ এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলেই মনে করছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রিপোর্টার জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত না থাকলেও পুলক চ্যাটার্জির কাছে অফিসের একটি চাবি ছিল। তিনি মাঝেমাঝে নিজেই দরজা খুলে অফিসে এসে বসতেন। তাঁর কথায়, “শুক্রবার দুপুরে আমি একটি দাওয়াতে অংশ নিয়েছিলাম। পরে সন্ধ্যায় এসে দেখি, অফিস ভেতর থেকে বন্ধ। তবে দরজা কিছুটা ফাঁক করে ভেতরে তাকালে পুলক চ্যাটার্জিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। তৎক্ষণাৎ পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।”
আরও পড়ুন: মধ্যবিত্তদের স্বস্তি দিয়ে দাম কমল সোনা, রুপোর! আজকের রেট
দ্রুত খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোতোয়ালি থানার পুলিশ। এরপর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। তবে এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে তিনি দুটি চিরকুটে তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে উদ্দেশ্য করে তাঁদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “তোমাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য দুঃখিত। কখনও কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিও।” যদিও তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।