অর্ধেক সময়ে দিল্লি, ঘণ্টায় ১৬০ কিমিতে ছুটবে ট্রেন! ‘মিশন রফতার’ নিয়ে বিরাট সুখবর

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: রেল (Indian Railways) ব্যবস্থায় নতুন উদ্যোগ। অনেকটাই কমে যাবে মুম্বই থেকে নয়াদিল্লি যাতায়াতের সময়। অর্থাৎ ট্রেনে করে আগের চাইতে অনেক কম সময়ে নয়াদিল্লি থেকে মুম্বাই পৌঁছানো সম্ভব হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চালাচ্ছে ভারতীয় রেল। লক্ষ্য, প্রায় ১,৪২৭ কিলোমিটারের দীর্ঘ এই পথে যাতায়াতের সময় কমিয়ে মাত্র ১২ ঘণ্টার কাছাকাছি নিয়ে আসা। বর্তমানে দ্রুততম ট্রেনগুলিরও এই পথ পেরোতে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ ঘণ্টা সময় লাগে।

‘মিশন রফতার’-এর উদ্দেশ্য কী?

‘মিশন রফতার’-এর অধীনে এই অসম্ভবকে সম্ভব করার কাজ চলছে। ট্র্যাক, বিদ্যুৎ, সিগন্যালিং-সহ একাধিক ক্ষেত্রকে একসঙ্গে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। এই প্রকল্পের সাম্প্রতিক অগ্রগতি দেখা গিয়েছে আগরা ডিভিশনে। গত ৭ সেপ্টেম্বর সেখানে নতুন 2×25 kV ছাতা ট্র্যাকশন সাবস্টেশন চার্জ করা হয়েছে। পালবল-মথুরা অংশকে দ্রুতগতির ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ট্র্যাক থেকে সিগন্যালিং, বদলাচ্ছে একাধিক ব্যবস্থা

রেলের পরিকল্পনায় পালবল-মথুরার প্রায় ৮৪ কিলোমিটার অংশকে উন্নত করার কাজ চলছে। এই অংশে প্রায় ৩৩৬ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। দ্রুতগতির ট্রেন চালানোর জন্য ওভারহেড ইকুইপমেন্টে পরিবর্তন, নতুন মাস্ট ও অ্যাক্সিলিয়ারি আর্থ কন্ডাক্টর বসানো এবং ট্র্যাকশন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কাজ হচ্ছে। পাশাপাশি সিগন্যালিং ও টেলিকম ব্যবস্থার উন্নতি, ইয়ার্ডের পরিবর্তন এবং প্রয়োজনীয় সিভিল ও মেকানিক্যাল কাজও করা হচ্ছে। মথুরা-ভূতেশ্বর অংশে বর্তমানে AEC সংক্রান্ত কাজ, মাস্ট বসানো এবং স্টেশন এলাকায় কমিশনিংয়ের উপর বিশেষ নজর দিয়েছে ভারতীয় রেল।

ট্রেনের গতি বাড়াতে শুধু রেললাইন উন্নত করলেই হবে না, এই প্রক্রিয়াকে কার্যকরী গড়ে তুলতে প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা। সেই লক্ষ্যেই ছাতা TSS চার্জ করার পাশাপাশি কোসিকলান, মথুরা এবং শোলাকা এলাকার একাধিক বিদ্যুৎ সংক্রান্ত পরিকাঠামো ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। বৃন্দাবন SSP-র চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছে। কোটবন SSP-র পরীক্ষার কাজও ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। হোডল ও আঝাইয়ের কিছু পরিকাঠামোও সেপ্টেম্বরে কমিশনিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রুন্ধি-পলবল TSS ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রস্তুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: গ্রামে প্রথমবার, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকাতেই দুর্গাপুজোর আয়োজন ঘাটালের মহিলাদের

জানা যাচ্ছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নজর রাখতে এই প্রকল্পে SCADA ব্যবস্থাকেও কাজে লাগানো হবে। এর মাধ্যমে আগরা কন্ট্রোল হাব থেকে ট্র্যাকশন পাওয়ার নেটওয়ার্ক দূর থেকেই পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। যদি কখনও কোনও সমস্যা হয়, তাহলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা কাজে আসবে। একইসঙ্গে মথুরা ও ভূতেশ্বর ইয়ার্ডের পরিকাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে নতুন আপ লাইন, চতুর্থ লাইন এবং ভূতেশ্বর ইয়ার্ডে কাট-কানেকশনের কাজ চলছে। ভারতীয় রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলির একটি বড় অংশ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে শেষ করা হবে। পরিকল্পনামাফিক কাজ এগোলে দিল্লি-মুম্বই রুটে যাতায়াতের জন্য সাধারণ মানুষকে আর বেশি সময় খরচ করতে হবে না।

Leave a Comment