প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনকে (West Bengal Bypoll 2026) ঘিরে চরম উত্তেজনামূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। যেহেতু আগামী ৬ অক্টোবর ভোট, তাই নির্বাচনী প্রচার নিয়ে মেতে উঠেছে রাজনৈতিক দলগুলি। আর এসবের মাঝেই এবার উপনির্বাচনকে ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল। জানা গিয়েছে, উপনির্বাচনে জোট চেয়ে নাকি কংগ্রেসের শীর্ষনেতৃত্বকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন কালীঘাট তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কিন্তু সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয় কংগ্রেস নেতৃত্ব।
কংগ্রেস জোট চেয়ে বেনুগোপালের সঙ্গে কথা মমতার
সূত্রের খবর, গত জুন মাসে দিল্লির কন্সস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডিয়া জোটের শেষ বৈঠকে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে চলার বার্তা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে দফায় দফায় সোনিয়া এবং রাহুলের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মমতা এবং অভিষেক। এরপরই জানানো হয়েছিল যে আসন্ন সব নির্বাচনে কংগ্রেস তৃণমূল একজোট হয়ে লড়বে। এরপর উপনির্বাচনের ঘোষণা হতেই কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপালের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মমতা। নন্দীগ্রাম আসন কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি। বদলে রেজিনগর কেন্দ্রে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থীকে সমর্থনের জন্য কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব নাকচ করা হয়।
প্রস্তাব নাকচ স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোট বাঁধার অনুরোধ উপেক্ষা করে গত শুক্রবার, কংগ্রেসের তরফে দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। নন্দীগ্রামে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে ভূমি আন্দোলনের নেতা মিলন প্রধান এবং রেজিনগর কেন্দ্রে হচ্ছেন জেলা পরিষদের সদস্য মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। রাজনীতিবিদদের মতে মূলত রাজ্যে তৃণমূলের শাসনকালে কংগ্রেস কর্মীদের উপর ‘অত্যাচারে’র প্রসঙ্গেই মমতার প্রস্তাব খারিজ করা হয়েছে। এদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, “জোট চাইলে উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনে কংগ্রেসকে সমর্থন করুক কালীঘাট তৃণমূল। তাহলে হয়ত আগামী দিনে তাহলে জোটের রাস্তা আরও খোলা থাকবে।”
আরও পড়ুন: রাস্তায় বেচতেন খাবার, আজ তিনিই টিম ইন্ডিয়ার সম্পদ! চেনেন সেই ভারতীয় ক্রিকেটারকে?
ইন্ডিয়া জোটে মমতার অবস্থান নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটের সময় সরকার থেকে বামেদের হটাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেছিলেন। জোটের সুবিধা পেয়ে ভোটে জেতার পর তৃণমূল সরকার গড়ে। ২০১২ সালেই রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন মমতা। এরপর তৃণমূলের শাসনকালে কংগ্রেসের উপর আক্রমণ নেমে এসেছে বলে অভিযোগ। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতার আবেদন এইভাবে কংগ্রেসের প্রত্যাখ্যান করার অর্থ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে বাংলায় কংগ্রেস মমতার পাশে নেই। তবে এক্ষেত্রে বাড়তে পারে মনোমানিল্য। এমনকি আগামীদিনে ইন্ডিয়া জোটে মমতার অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
অন্যদিকে কালীঘাট পন্থী দল উপনির্বাচনের জন্য দুই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করার পাশাপাশি ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলও দুই কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে। তাঁদের তরফে তৃণমূলের নন্দীগ্রামের প্রার্থী হয়েছেন এহতাশামুল হক এবং রেজিনগরে প্রার্থী হচ্ছেন সফিউজ্জমান শেখ। এখন দেখার তৃণমূলের স্থানীয় স্তরে প্রার্থী বিতর্কের জল কোন দিকে মোড় নেয়।