উচ্চ মাধ্যমিক দিলেই মেয়েরা পাবে ৫০ হাজার টাকা, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: উচ্চমাধ্যমিকের পর টাকার অভাবে অনেক মেয়েরাই আর উচ্চশিক্ষার পথে এগোতে পারে না। যাতে মেয়েদের উচ্চশিক্ষা থেমে না যায়, সেই লক্ষ্যেই এবার বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal)। ১৭ সেপ্টেম্বর আয়োজিত অন্নপূর্ণা দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, উচ্চমাধ্যমিক পেরিয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়া ছাত্রীরা ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে এই সুবিধা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিন বছরে মিলবে ৫০ হাজার টাকা

ঘোষণা অনুযায়ী, স্নাতক কোর্স শুরু হলে তিন বছরে ধাপে ধাপে ছাত্রীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠানো হবে। প্রথম বছরে পাওয়া যাবে ১৭ হাজার টাকা। দ্বিতীয় বছরেও ১৭ হাজার টাকা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এরপর তৃতীয় বছরে মিলবে আরও ১৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ তিনটি কিস্তি মিলিয়ে মোট আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০ হাজার টাকা। উচ্চমাধ্যমিকের পর যেসব ছাত্রী উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য স্নাতক কোর্সে ভর্তি হবেন, তাঁদের খরচ সামলাতে এই অর্থ বেশ কিছুটা সাহায্য করবে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে এই আর্থিক সহায়তা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে কীভাবে আবেদন করা যাবে, কী কী নথি লাগবে, সেই সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে কোনও নির্দিষ্ট পোর্টালের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশের পরই কারা কীভাবে আবেদন করতে পারবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। তবে যতদূর জানা যাচ্ছে, আবেদন করার জন্য আধার কার্ড, ব্যাংক পাসবই, উচ্চ মাধ্যমিক পাস মার্কশিট, কলেজে ভর্তির রশিদ ইত্যাদি ডকুমেন্টসগুলির প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুন: জুম্মার নামাজ চলাকালীন পাকিস্তানের মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১৬, আহত ৫০ অধিক

উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই প্রধান লক্ষ্য

উচ্চমাধ্যমিকের পর অনেক ছাত্রী আর্থিক সমস্যার কারণে কলেজে ভর্তি হতে পারেন না। কিছু ছাত্রী ভর্তি হয়ে গেলেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতি সামলাতেই সরকারের তরফ থেকে এই আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, স্নাতক স্তরে মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া এবং অর্থাভাবে শিক্ষাজীবন যাতে থেমে না যায় সেই দিকটা দেখাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment