রাতে সারাক্ষণ চালু থাকে WiFi? ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনছেন শরীরে, জানুন আসল তথ্য

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ইন্টারনেট ব্যবস্থা আমাদের জীবনের সঙ্গে এতটাই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে যে জল, খাদ্য এবং বাসস্থানের মতই এটি খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারউপর বর্তমানে সবকিছুই এখন অনলাইনে হয়ে থাকে। সেই কারণে অফিস তো বটেই, দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদান করার জন্য অনেকে বাড়িতেও ওয়াই-ফাই (Home WiFi) ব্যবহার করে। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই ওয়াইফাই এর চক্করে আপনি বাড়িতে অসুস্থ (WiFi Health Risks) হয়ে পড়তে পারেন? এমনকি রয়েছে ক্যান্সারের ঝুঁকি। তাহলে চলুন আমাদের আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সবটা জেনে নিন বিস্তারিত।

ওয়াইফাই থেকে বাড়ছে রোগ

বলা হয়, ওয়াই-ফাই-র থেকে যে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ তৈরি হয়, তা আমাদের শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। আসলে এই তরঙ্গ নিদ্রাহীনতা, ডিপ্রেশন এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিল সমস্যা তৈরি করে। ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে স্মৃতিশক্তিকেও। শুধু তাই নয়, এও জানা গিয়েছে যে ওয়াইফাই রাউটার থেকে যে ‘রেডিয়েশন ওয়েভ’ বেরোয়, তা সার্বিক ভাবে মানসিক স্বাস্থ্যেও ধাক্কা দিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছিল, মাথার কাছে রাতভর ওয়াইফাই রাউটার চললে নাকি, যে তড়িচ্চুম্বকীয় তরঙ্গ শরীরে ঢোকে তার থেকে ক্যানসার বা ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

স্লিপ ডিজঅর্ডার বাড়ছে একাধিকের

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যোগাযোগের এই প্রযুক্তি মানুষকে যা সুবিধা দিয়েছে, তার থেকে অনেক বেশি ক্ষতি করছে শরীরে। তবে এর প্রভাব পুরোপুরি এড়ানো না গেলেও অনেকটাই কমানো যেতে পারে। জানা গিয়েছে, ওয়াইফাই চালু রেখে মাথার কাছে ফোন নিয়ে ঘুমোলে নাকি মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, কারণ ওয়াইফাইয়ের তরঙ্গ হল ‘নন-আয়নাইজ়িং’। আসলে আমরা সকলেই উচ্চ গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা পেলেই একের পর এক সিনেমা, সিরিজ দেখতে থাকি, এতে ঘুমের বারোটা বাজে। আর যদি এই অভ্যাস দীর্ঘ দিন ধরে চলে তাহলে ‘স্লিপ ডিজঅর্ডার’ দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন: জানেন কেন ইলেকট্রিক প্লাগের পিন কাটা থাকে? রইল তথ্য

স্লিপ ডিজঅর্ডার এর সমস্যায় রাতে একদিকে যেমন ঘুম আসতে চায় না, ঠিক তেমনই দিনের বেলায় প্রচণ্ড ক্লান্তি ও ঝিমুনি আসে। তাই আজকের দুনিয়ায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার পিছনে ছুটতে গিয়ে নিজের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রাখতে হবে। তাই শরীর ও মন যদি ঠিক রাখতে হয়, তা হলে রাতে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখাই ভাল। আর ফোনটি মাথার কাছে নিয়ে শোওয়া উচিত নয়।

Leave a Comment