অনন্যা সরকার, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: টিকলো না পাঁচ বছরও। তৃণমূলের গড় যেমন ভেঙে খানখান, তেমনই তৃণমূল সরকারের আমলে ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি সেতুটি (Bridge) নির্মাণের পাঁচ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে জলে ভেঙে পড়লো। রবিবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকে কালু নদীর ওপর কংক্রিটের কাঠামোটি ভেঙে পড়ে। সেতুটি নদীর এক পাড়ের আবাদ গঙ্গাধরপুর গ্রাম এবং অপর পাড়ের শ্রীনারায়ণপুর-পূর্ণচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্থ এলাকাগুলির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ স্থাপন করেছিল। এর ধসে পড়ায় এখন নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
৫ বছরের কম সময়ের মধ্যে সেতু ভেঙে পড়ল জলে
ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন যে, প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি প্রায় পাঁচ বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল। তবে, নির্মাণের সময় থেকেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে। এর কিছুদিন পরেই সেতুটি ধসে পড়ায় সেই অভিযোগগুলোই সত্যি প্রমাণিত হয়। পরে কয়েকটি পাতলা লোহার রড দিয়ে ঢালাই করে সেতুটিকে জোড়াতালি দিয়ে কোনমতে ব্যবহার্য করে তোলা হয়েছিল। সেসময় নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে, এই অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রতিবাদও জানান। তখন তাঁদের ভয় দেখানো থেকে শুরু করে শারীরিক আক্রমণ, এমনকি মিথ্যা আইনি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
রবিবার সকালে সেতুটি আবারও ধসে পড়ার পর, বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানাতে ঘটনাস্থলে একত্রিত হন। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এই সেতু নির্মাণের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। স্থানীয়রা সেতুটি অবিলম্বে পুনর্নির্মাণের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদনও করেছেন। গ্রামবাসীদের কাছে এই সেতুটি লাইফলাইনের মতো, কারণ এটি স্থানীয় স্কুল, গদামথুরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং রামগঙ্গা বিডিও অফিস সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে। ফলে, এই ধসের কারণে ছাত্রছাত্রী, অসুস্থ রোগী ও জরুরি পরিষেবা প্রয়োজন এমন মানুষরা গুরুতর সমস্যায় পড়েছেন।
আরও পড়ুন: মিড-ডে মিলে এবার পড়ুয়াদের পাতে পড়বে চিকেন বিরিয়ানি, বিরাট উদ্যোগ সরকারের
এই মুহূর্তে কলার কাণ্ড দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ভেলা বানিয়ে বাসিন্দাদের নদী পারাপার করতে হচ্ছে, এমনকি এক রোগীকে নিয়ে তাঁর পরিবারের মানুষদের ভেলায় করে এভাবে জল পারাপার করতে দেখা গেছে। এই ঘটনাটি জানার পর সুন্দরবন বিষয়ক উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা আশ্বাস দিয়েছেন যে, সেতুটি মেরামত ও পুনর্নির্মাণের কাজ অবিলম্বে শুরু করা হবে। মন্ত্রী এও বলেন যে, সেতুটির প্রাথমিক নির্মাণকাজের সময় কোনো দুর্নীতি হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হবে। আর তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিদের অবশ্যই শাস্তি হবে।