নাবালিকাকে শ্লীলতাহানি ও মারধর বিহারে, জামুই কাণ্ডে অভিযুক্তকে এনকাউন্টার

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিহারের (Bihar) জামুইয়ে দশম শ্রেণির এক নাবালিকাকে শ্লীলতাহানি এবং মারধরের ঘটনায় এবার কড়া পদক্ষেপ নিল পুলিশ। মঙ্গলবার পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদব। এমনকি তাঁকে গ্রেফতার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাঁর অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।

নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় এনকাউন্টারে গুলিবিদ্ধ যুবক

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার কোচিং ক্লাস সেরে এক সহপাঠীর সঙ্গে স্কুটিতে মারওয়া পাহাড়ে গিয়েছিল ওই ছাত্রী। তবে সন্ধ্যার দিকে ফেরার পথে একদল যুবক তাঁদের পথ আটকায়। অভিযোগ, জোরপূর্বক তাঁদেরকে স্কুটি থেকে নামিয়ে গালিগালাজ করার পাশাপাশি নাবালিকাকে অশালীনভাবে স্পর্শ এবং শ্লীলতাহানি করা হয়। এমনকি বাধা দিলে ওই নাবালিকার বন্ধুকেও মারধর করে অভিযুক্তরা। আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে এই অত্যাচার চলার পর কোনও মতে সেখান থেকে তাঁরা পালিয়ে বাঁচে। তবে সোমবার এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ দয়াল জানিয়েছেন, নাবালিকার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই পকসো আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের জন্য এসডিপিও দীপ্তি মোনালির নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। আর ভিডিও দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তিনজনকে হেফাজতেও নেওয়া হয়েছিল। তবে বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালানোর সময় মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদবের সঙ্গে পুলিশের গুলির লড়াই হয়। আর সেখানেই তাঁর পায়ে গুলি চালায় পুলিশ।

আরও পড়ুন: ঢোকেনি অন্নপূর্ণা যোজনা, বিধায়কের বাড়ি ঘিরে যা কাণ্ড ঘটালেন মহিলারা

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিহারের রাজনীতির পারদ যে আরও চড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিতীশ কুমার এবং সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন সরকারকে আক্রমণ করেছেন বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী এবং তেজস্বী যাদব। তবে বিজেপি নেতারা বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়েছেন। আবার অন্যদিকে জাতীয় মহিলা কমিশন এবং বিহার রাজ্য মহিলা কমিশন এই ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়েছে।

Leave a Comment