বয়স ৬ কিন্তু দেখতে লাগে ৮০! চামড়া ঝুলে যাওয়ার এক বিরল রোগে আক্রান্ত বালিকা

অনন্যা সরকার, কলকাতা: শিশুদের মাঝে মধ্যে এমন কিছু বিরল রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়, যা দেখে সবাই বিস্মিত হন। সম্প্রতি এরকমই একটি ঘটনা সামনে এসেছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হচ্ছে একটি ভিডিও, যেখানে দেখা যাচ্ছে মাত্র ছয় বছর বয়সী একটি বাচ্চা মেয়েকে তার বয়সের চেয়ে অনেক বেশি বয়স্ক দেখাচ্ছে। জানা গেছে, মেয়েটি কিউটিস লাক্সা (Cutis Laxa) নামের এক বিরল রোগে আক্রান্ত, যার কারণে মাত্র ছয় বছর বয়সেই তাকে আশি বছর বয়সী বৃদ্ধার মতো দেখতে লাগে। চলুন বিরলতম এই রোগটির সম্পর্কে আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

কিউটিস লাক্সা কী?

ক্লিভলান্ড ক্লিনিক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কিউটিস লাক্সা একটি বিরল বংশগত রোগ, যা শরীরের সংযোগকারী টিস্যুকে (Connective Tissue) প্রভাবিত করে এবং এর ফলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয় ও ত্বক ঝুলে যায়। এই টিস্যুগুলো ত্বক, রক্তনালী এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে শক্তিশালী ও নমনীয় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু যখন এগুলো সঠিকভাবে কাজ করে না, তখন ত্বকে ভাঁজ পড়তে শুরু করে, বা ত্বক ঝুলে যায়। তবে, চিকিৎসার মাধ্যমে এই বিরল রোগের লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সুস্থ মানুষের স্বাভাবিকভাবে ত্বকের ফাইবার প্রসারিত হয় এবং তারপর তাদের স্বাভাবিক আকারে ফিরে যায়। তবে, যদি কারও কিউটিস ল্যাক্সা থাকে, তাহলে এই ফাইবারগুলো ঠিকমতো কাজ করে না, সেগুলো প্রসারিত অবস্থাতেই থেকে যায়। এর ফলে ত্বকে ভাঁজ পড়ে ও ত্বক ঝুলে যায়।

কিউটিস লাক্সা মূলত দুই প্রকারের হয়ে থাকে, এগুলি হল অ্যাকোয়ার্ড বা অর্জিত এবং অপরটি হল ইনহেরিটেড বা বংশগত। অ্যাকোয়ার্ড কিউটিস লাক্সার এই প্রকারটি জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে, সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দেখা দেয়। এটি কোনো অসুস্থতা, সংক্রমণ বা নির্দিষ্ট কিছু ধরনের ওষুধের প্রতিক্রিয়ার কারণে হতে পারে। আর ইনহেরিটেড প্রকারটি জন্ম থেকেই শরীরে বিদ্যমান থাকে। এটি পিতা বা মাতা যেকোনও একজনের থেকে বা উভয়ের কাছ থেকেই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত কোনও জিনের পরিবর্তনের কারণে হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: মাসে ১০ হাজার টাকা করে জমিয়ে পান ১১ কোটি, রইল বিনিয়োগের সেরা ঠিকানা

বংশগত কিউটিস লাক্সা এমন একটি জিনের ভিন্নতার কারণে হয়, যা শরীরকে ইলাস্টিন তৈরি করতে সাহায্য করে। এটি ফাইবুলিনের মতো ইলাস্টিনের কার্যকারিতায় সাহায্যকারী জিনের ভিন্নতার কারণেও হতে পারে। ইলাস্টিন হল একটি প্রোটিন যা ত্বককে স্থিতিস্থাপকতা ও শক্তি প্রদান করে। যখন এই প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে কাজ করে না, তখন ত্বক ও কানেকটিভ টিস্যুগুলো আলগা হয়ে পড়ে।

কিউটিস লাক্সার লক্ষণগুলি কী কী?

  • এই রোগ হলে ত্বক স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বয়স্ক দেখায়। 
  • শিশুদের বিকাশ বা শেখার ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়।
  • শৈশবে শরীরের বৃদ্ধি ধীর গতিতে হয়। 
  • মুখমণ্ডল বা হাড়ের গঠনে ভিন্নতা দেখা যায়।
  • অত্যন্ত নমনীয় বা শিথিল অস্থিসন্ধি থাকে। 
  • মেরুদণ্ড বা পাঁজরের বিকৃতি দেখা যায়। 

বর্তমানে এই অবস্থা প্রতিরোধ করার কোনও উপায় এখনও জানা নেই। ভ্রূণ যখন মাতৃগর্ভে বিকশিত হয়, তখন নির্দিষ্ট কিছু জিনের পরিবর্তনের ফলে এই জিনগত রূপটি দেখা দেয়। এই পরিবর্তনগুলি প্রতিরোধ করা যায় না।

Leave a Comment