প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: উপনির্বাচনের আগেই এবার হুগলীর (Hooghly) বলাগড়ে ব্যাপক জয় অর্জন করল বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ বছর পর সেখানকার মৎস্য সমবায় ভোটে একপ্রকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপি প্রার্থীরা ৯টি আসনই দখল করে নিয়েছে। আর তাই নিয়ে রীতিমতো উৎসব শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরে (BJP Wins Balagarh)। জানা গিয়েছে, এই জয়ের কৃতিত্ব তাঁরা হুগলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গৌতম দা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের প্রচেষ্টাকে উৎসর্গ করেছেন।
দীর্ঘ বছর পর বলাগড়ে মৎস্য সমবায় সমিতিতে নির্বাচন
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এতদিন তৃণমূলের রাজত্বের পর দীর্ঘ প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় পর আয়োজন করা হয়েছিল বলাগড় মৎস্য সমবায় সমিতির নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বড়সড় সাফল্য হাসিল করল বিজেপি মনোনীত প্রার্থীরা। অভিযোগ উঠেছিল বিগত প্রায় ৩৪ থেকে ৩৫ বছর ধরে এই সমবায়ে কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচন হয়নি। তৃণমূল ইচ্ছেমত বোর্ড পরিচালনা করে আসছিল। কিন্তু এবার বিজেপি রাজ্য সরকার গঠন করতেই পাশা উল্টে গেল। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম ও সরকারি নির্দেশিকা মেনেই বলাগড় মৎস্য সমবায় সমিতির নির্বাচন প্রস্তুতি শুরু হল।
৯টি আসনেই জয় অর্জন বিজেপির
জানা গিয়েছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের জন্য ৯টি আসনে বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র তোলা হয়েছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। কিন্তু এই নির্বাচনে বিরোধী কোনো পক্ষ মনোনয়ন জমা দেয়নি। এরপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি প্রার্থীরা দাবি করেন, যেহেতু বিরোধী কোনো পক্ষ মনোনয়ন জমা দেয়নি, তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবকটি আসনেই বিজেপি প্রার্থীদের জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা। এই জয়ের কৃতিত্ব তাঁরা হুগলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গৌতম দা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের প্রচেষ্টাকে উৎসর্গ করেছে।
আরও পড়ুন: হয় অন্নপূর্ণা যোজনা, না হয় বিধবা ভাতা! মহিলাদের একটা বাছার নির্দেশ রাজ্য সরকারের
পূর্বতন সরকারকে খোঁচা দিয়ে দুর্নীতি প্রসঙ্গে বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ জানিয়েছে যে, বিগত বোর্ড ও প্রশাসন একাধিক আর্থিক অনিয়ম করেছে। বিগত বছরগুলিতে মৎস্য সমবায়ের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে যে কোটি কোটি টাকার তহবিল আসত, তাও নয়ছয় করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এলাকার প্রধান বা প্রাক্তন প্রধানদের মতো বহু প্রভাবশালীদের নাম এই মৎস্য সমিতিতে ঢোকানো হয়েছে, যাঁরা আদৌ মৎস্যজীবী নন। এর ফলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে এবার বিজেপি নেতৃত্বদের বিশ্বাস নতুন এই সমিতি গঠিত হলে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের স্বার্থে কাজ করা হবে।