আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে অনেক সময় চাষীদের বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়। সেই সময় এক বিরাট অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয় কৃষকদের। বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি কিংবা শিলাবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় কিছুটা আর্থিক সুরক্ষা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে প্রধানমন্ত্রীর ফসল বিমা যোজনা (PM Fasal Bima)। উত্তরপ্রদেশে ২০১৬-১৭ সাল থেকে এই প্রকল্প চালু রয়েছে। কৃষকদের ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি কমানো এবং চাষের খরচের ঝুঁকির বিরুদ্ধে আর্থিক সুরক্ষা দেওয়াই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
চাষের কোন কোন পর্যায়ে মিলবে সুরক্ষা?
PMFBY-এর আওতায় শুধু ফসল কাটার পরের ক্ষতি নয়, বরং চাষের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্দিষ্ট ঝুঁকিও বিমার আওতায় আসতে পারে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বীজ বোনা বা রোপণ করা সম্ভব না হলে, মাঠের ফসল খরা, বন্যা, জল জমা কিংবা শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমার সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। এমনকী ফসল কাটার পর মাঠে শুকিয়ে রাখা ফসল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নষ্ট হলেও ক্ষতিপূরণের সুযোগ রয়েছে।
কৃষককে কত টাকা প্রিমিয়াম দিতে হয়?
এই প্রকল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কৃষকের প্রিমিয়ামের অংশ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। কৃষকদের প্রিমিয়াম হিসেবে দিতে হবে ১ টাকা। খরিফ খাদ্যশস্য ও তৈলবীজের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ, রবি খাদ্যশস্য ও তৈলবীজের ক্ষেত্রে ১.৫ শতাংশ এবং বার্ষিক বাণিজ্যিক ও উদ্যানজাত ফসলের ক্ষেত্রে সাধারণত ৫ শতাংশ প্রিমিয়াম দিতে হয়।
কীভাবে আবেদন করবেন?
কৃষকরা PMFBY-এর সরকারি পোর্টালের Farmer Corner থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। পাশাপাশি নিকটবর্তী জনসেবা কেন্দ্র (CSC), ব্যাংক শাখা বা সমবায় সমিতির মাধ্যমেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। অনলাইনে আবেদন করতে হলে Farmer Corner-এ গিয়ে ‘Enroll Now’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য, জমি ও চাষ করা ফসলের বিবরণ দিতে হবে। এছাড়া কৃষকের রেজিস্ট্রেশনের সময় নাম, মোবাইল নম্বর, পরিচয়পত্রের তথ্য এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলি জমা করতে হবে।
কী কী নথি লাগতে পারে?
আবেদনের সময় সাধারণত আধার কার্ড, ব্যাংক পাসবুকের কপি, জমির নথি এবং চাষের প্রমাণ সংক্রান্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে। জমির খতিয়ান বা খসরা নম্বরের মতো তথ্যও প্রয়োজন হতে পারে। তবে কোন নথি লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি ও ফসলের মরসুম অনুযায়ী বদলাতে পারে। তাই আবেদন করার আগে স্থানীয় কৃষি দফতর, ব্যাংক বা CSC থেকে প্রয়োজনীয় নথির তালিকা যাচাই করে নেওয়া ভালো।
প্রযুক্তির সাহায্যেই হবে ফসলের ক্ষতির হিসাব
ফসলের ফলন ও ক্ষতির হিসাব আরও নির্ভুল করার জন্য এই প্রকল্পের ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। রিমোট সেন্সিং, স্যাটেলাইট ডেটা, ড্রোন, জিও-ট্যাগিং এবং ডিজিটাল ক্রপ-কাটিং এক্সপেরিমেন্টের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসলের ফলন ও ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েছে। PMFBY-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কৃষকরা আবেদন করার পাশাপাশি নিজেদের পলিসির স্ট্যাটাসও দেখতে পারেন।
ফসল নষ্ট হলে কোথায় জানাবেন?
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ফসলের ক্ষতি হলে দ্রুত তা জানানো প্রয়োজন। কোনও প্রশ্ন, সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে কৃষকরা কৃষি রক্ষক পোর্টাল ও হেল্পলাইন (KRPH)-এর ১৪৪৪৭ টোল-ফ্রি নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। সরকারি PMFBY পোর্টালেও ফসলের কতটা ক্ষতি হয়েছে সেটা জানানো এবং অভিযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ঠিক যেন ‘মিনি গোয়া’, নির্জনে পুজোর ছুটি কাটাতে ঘুরে আসুন ‘সোনাপুর সমুদ্র সৈকত’
এর পাশাপাশি গুরুতর প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল থেকেও কৃষকদের জন্য আলাদা ত্রাণের ব্যবস্থা করতে পারেন। অর্থাৎ ফসল বিমার পাশাপাশি সরকারি ত্রাণ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা লাভের উপায় হয়ে উঠতে পারে। কোন মরসুমে কোন ফসল বিমার আওতায় থাকবে, তার তালিকা রাজ্য সরকার সময় অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাবে। তাই আবেদন করার আগে নিজের জেলা, ফসল ও মরসুম অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি দেখে নেওয়া জরুরি।