অনন্যা সরকার, কলকাতা: প্রতিটি নারীর জীবনে মা হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মা হওয়ার পর একজন মহিলার জীবন পুরোপুরি বদলে যায়। শারীরিক পরিবর্তন থেকে শুরু করে নতুন দায়িত্ব পর্যন্ত, এই সময়ে তিনি নানা ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। কখনও কখনও তিনি তার স্বামীর প্রতি ছোটখাটো কারণেই রাগান্বিত বা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ভারতীয় বায়ু সেনার প্রাক্তন স্কোয়াড্রন লিডার রিচা নারায়ণের (Former IAF Squadron Leader Richa Narain) সাথেও এমনই কিছু ঘটেছিল (Motherhood Journey)। মা হওয়ার ঠিক পরের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তিনি বলেন যে, একটা সময় ছিল যখন তিনি তার স্বামীকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করতেন। কী এমন ঘটে যার জন্য তার মনে এতটা ক্ষোভ জন্মেছিল? চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
মা হওয়ার পর স্বামীর প্রতি ক্ষোভের কারণ কী ছিল?
বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার রিচা নারায়ণ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন তাঁর মাতৃত্বের যাত্রা নিয়ে কিছু কথা ভাগ করে নিয়েছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, মা হওয়ার পর তিনি তাঁর স্বামীকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করতে শুরু করেন। সে আগের মতোই ছিল, কিন্তু তাঁর পুরো জীবনটাই বদলে গিয়েছিল। একারণেই স্বামীর প্রতি আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন
তিনি স্বীকার করেন যে, এই পরিবর্তনগুলো গর্ভধারণের মুহূর্ত থেকেই শুরু হয়ে যায়, সন্তান জন্মানোর পর নয়। কেউ যদি ক্রমাগত সচেতনভাবে গর্ভধারণ এবং সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করতে থাকেন, তাহলে একজন মহিলা ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে ও মানসিক চাপে ভুগতে শুরু করেন।
আরও পড়ুন: করোনাকালের ১৮ মাসের বকেয়া DA নিয়ে বড় আপডেট, শীঘ্রই মিলবে টাকা?
রিচা নারায়ণ জানান, এরপর আসে গর্ভাবস্থার সেই কঠিন নয়টি মাস। এই সময়ে তাঁর স্বামী সহায়ক হিসেবে পাশে তো ছিলেন, কিন্তু একেবারে শূন্য থেকে শিশুটি গড়ে ওঠে মায়ের শরীরেই। রিচা জানান, স্বামীর অবদান একটি কোষের মতো। তিনি অবশ্যই খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, কিন্তু তবুও সেই শিশুটিকে এই পৃথিবীতে আনার জন্য তাঁর শরীর যা করেছে, তার সাথে তাঁর স্বামীর কাজের কোনো তুলনাই চলে না।
স্কোয়াড্রন লিডার বলেন, “আমার এখনও মনে আছে, কাজ থেকে বাড়ি ফিরে আমার স্বামী জানতে চাইতেন জিমে যাবেন, না হেঁটে আসবেন না দৌড়াবেন। ব্যাপারটা আমাকে হতবাক করে দিত। আমি বুঝি যে তার ব্যায়াম করা দরকার, কিন্তু আমার সমস্যাটা ছিল যে এই লোকটার এসব বিষয় নিয়ে ভাবার মতোও প্রচুর শক্তি আছে।”
আরও পড়ুন: ফিরল রিয়া আহির স্মৃতি, যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে পুলিশের গাড়ি আটকানো কে এই তরুণী?
রিচা নারায়ণ বলেন, এটা ভেবে তাঁর কষ্ট হতো যে, তাঁর কাছে সেই সুযোগ ছিল না। বাচ্চাকে খাওয়ানো, তার যত্ন নেওয়া এবং বড় করে তোলা – এই সবকিছুই তাঁর ওপর নির্ভর করত। তাঁকে সাহায্য করার লোক ছিল, কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই সে তাঁর স্বামীর জায়গাটা নিতে পারত না।
সব শেষে স্কোয়াড্রন লিডার বলেন, তাঁর কাছে বিকল্প না থাকাটাই একটা বড় কারণ ছিল, যার জন্য তিনি তাঁর স্বামীর ওপর সারাক্ষণ রেগে থাকতেন। যদিও তিনি এটা স্বীকার করেছেন যে, এখন তাঁর স্বামী অনেক কিছুই বোঝেন। কিন্তু রিচার এখনও মনে হয় যে, নারীদের সবকিছু একা সহ্য করা উচিত নয়। স্বামীদের বোঝা উচিত তারা কোন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।