অনন্যা সরকার, কলকাতা: গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাই (Flydubai)-এর একটি ফ্লাইটের ককপিটে সহ-পাইলটের হামলায় আহত হন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। তাও তিনি ১৭০-এর বেশি যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়ে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান। সেই ঘটনা নিয়ে বর্তমানে সারা বিশ্বে তোলপাড় চলছে। তারই মধ্যে এবার আল-কায়েদার (Al-Qaeda) সাথে জড়িত একটি প্রকাশনা মার্কিন ও ইসরায়েলি যাত্রীবাহী বিমানকে লক্ষ্য করে হুমকি দিয়েছে। সংগঠনটির সমর্থক সাপ্তাহিক প্রকাশনা ‘আল-বায়ান’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলারও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শেষ হয়নি। আমেরিকা, ইসরায়েল এবং ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াই করা যোদ্ধাদের বহনকারী বিমানগুলো এখনও আকাশে উড়ছে, আর সেগুলোই হবে টার্গেট।
ফ্লাইদুবাই-এর সহ পাইলটের সাথে আল কায়দার সংযোগ?
ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান ক্র্যাশ করার চেষ্টায় মূল অভিযুক্ত সহ-পাইলট হামাম আল-হামামিকে নিয়ে বর্তমানে চলছে তদন্ত। এর মধ্যেই এবার সংবাদপত্রে সরাসরি হুমকির ঘটনাটি আতঙ্ক বাড়িয়েছে। ওমানের নাগরিক আল-হামামি গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইট এফজেড ১০৭৩-এর ককপিটে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে একটি কুড়ুল দিয়ে আক্রমণ করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এই তদন্তের অংশ হিসেবে তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যেখানে আল-কায়েদার প্রাক্তন নেতা ওসামা বিন লাদেন এবং আয়মান আল-জাওয়াহিরি সহ বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে জড়িত কন্টেন্ট পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন যে, হামলাকারী উগ্র ইসলামি মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত ছিল এবং যাত্রীসহ বিমানটি ক্র্যাশ করার উদ্দেশ্য ছিল তার। ইসরায়েলের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আরও বলেছেন যে, বিমানের ওই সহ চালক চরমপন্থী মতাদর্শের সংস্পর্শে এসেছিল। আল-হামামির সাথে সম্পর্কিত সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্যগুলি তদন্তে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই অ্যাকাউন্টগুলোর কিছু পোস্টে ককপিটের ভিডিও এবং কাছাকাছি থাকা একটি ইসরায়েলি বিমানের দিকে ক্যামেরা ঘোরানোর দৃশ্য দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানিদের চেয়ে বেশিদিন বাঁচেন ভারতীয়রা, বলছে WHO-র রিপোর্ট
সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দ্বিতীয় ছবিতে আয়মান আল-জাওয়াহিরির একটি ছবি ছিল। এতে হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাউইর কথাও উল্লেখ করা হয়, যিনি ২০০৯ সালে আফগানিস্তানে একটি আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিলেন। তবে, এই পোস্টগুলো আল-হামামি নিজে করেছিলেন নাকি অন্য কেউ তার নাম ব্যবহার করে করেছে, তা স্পষ্ট নয়। তদন্ত শুরু হতেই কিছু অ্যাকাউন্ট পরে মুছে ফেলা হয়। ফ্লাইদুবাইতে যোগদানের আগে, আল-হামামি ওমান এয়ার এবং রয়্যাল এয়ার মারোক-এ কাজ করেছেন। ওমান এয়ারে থাকাকালীন তার চরমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এবং তাকে ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়।