অনন্যা সরকার, উত্তর প্রদেশ: জীবনে চলার পথ সহজ হয় না। থাকে অনেক চড়াই উতরাই ও প্রতিবন্ধকতা। হঠাৎ আসা সংকট সবচেয়ে সাহসী মানুষকেও নাড়িয়ে দিতে পারে। তবে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের থেকে এমন এক অনুপ্রেরণামূলক ও রোমহর্ষক গল্প উঠে এসেছে, যা প্রমাণ করে যে দৃঢ় সংকল্প থাকলে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতাকে জয় করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়। মহারাজগঞ্জের তিন বোন, বর্তিকা, বন্দিতা ও অবন্তিকা – আর্থিক কষ্ট ও পারিবারিক সংকটের কাছে নতি স্বীকার না করে নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজেদের তৈরি করছেন দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা, ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসের জন্য (UPSC Struggle Story)। আসুন তাঁদের এই অনুপ্রেরণামূলক যাত্রাটির সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও UPSC-এর প্রস্তুতি
মহারাজগঞ্জের বাসিন্দা রামসকল উপাধ্যায় ২০১৭ সালে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন, ফলে হারাতে হয় চাকরি। পরিবারের সামান্য সঞ্চয় আর জমি বিক্রি করে চিকিৎসার খরচ জোগাড় হয়। বাবার ওষুধ ও সংসারের খরচ মাসে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা লাগত। এই সব কিছুর জেরে বড় ভাইয়ের পড়াশোনাও থমকে যায়। তখন হাল ধরতে এগিয়ে আসেন তিন বোন – বর্তিকা (২২), বন্দিতা (২১) ও অবন্তিকা (১৯)।
মাত্র ৮,০০০ টাকা নিয়ে গোরক্ষপুরের দীনদয়াল উপাধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে ‘বিলিভার বিস্ট্রো’ নামে একটি চায়ের দোকান খোলেন। প্রথমে মা সমাজের ভয়ে রাজি ছিলেন না, কিন্তু কঠিন বাস্তব তাদের এই পথে নিয়ে আসে।বর্তিকা বি.এসসি পাস করে বাড়িতে থেকেই ইউপিএসসির প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন। ভোর ৪টায় উঠে পড়াশোনা, পরিবারের দেখাশোনা করে আরও ৫–৬ ঘণ্টা পড়েন।
আরও পড়ুন: পরপর তিনবার ব্যর্থ, তবু ছাড়েননি হাল, UPSC-তে ৬২ র্যাঙ্ক নিয়ে IAS হলেন বৈষ্ণবী
বন্দিতা ও অবন্তিকা দীনদয়াল উপাধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ (BA) প্রথম ও দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্রী, তারা সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চায়ের স্টল সামলান, তারপর রাত ১২টা থেকে ২-৩টা পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস ও ইউটিউবের মাধ্যমে সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি নেন। বন্দিতার লক্ষ্য আইপিএস (IPS), আর অবন্তিকা ও বর্তিকা চান আইএএস (IAS) হতে। তাদের এই পথচলা শেখায় সাফল্য সম্পদের ওপর নয়, অধ্যবসায়ের ওপর নির্ভর করে। গোরক্ষপুরের এই তিন বোনের লড়াইয়ের কাহিনী, আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা বহু ছেলেমেয়েদের অনুপ্রেরণা যোগায়।